বর্তমানে বিশ্বজুড়ে BrahMos Missile Global Demand দ্রুত বেড়ে চলেছে। ভারতের তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোস এখন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে। ১৪টি দেশ ইতিমধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে, আর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ এর অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।
একসময় ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এখন সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারত এখন শুধু নিজের চাহিদা পূরণই করছে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অত্যাধুনিক অস্ত্র রপ্তানিও করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬২.৬৬% বেশি। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের ইতিহাসে একটি বড় মাইলস্টোন। এই বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উন্নত প্রযুক্তি।
BrahMos Missile Global Demand কেন এত বেশি?
‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্রহ্মোসের সফল ব্যবহার এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অপারেশনে এর নির্ভুলতা, গতি এবং শক্তি প্রদর্শন বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। এর ফলে অন্তত ১৪টি দেশ ইতিমধ্যেই ভারত থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে।
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র এখন বিশ্ববাজারে অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ক্ষেপণাস্ত্রের পারফরম্যান্স দেখে রাশিয়াও নিজস্ব সেনাবাহিনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ইতিমধ্যে ভারত ফিলিপাইনের সঙ্গে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এরপর ভিয়েতনাম ভারতের সঙ্গে প্রায় ৬২৯ মিলিয়ন ডলারের ব্রহ্মোস চুক্তি সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়াও এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আর কোন কোন দেশ আগ্রহী?
শুধু এশিয়া নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী ব্রহ্মোস নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) ইতিমধ্যেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং ব্রহ্মোসসহ অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এছাড়াও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ওমান, চিলি, ব্রাজিল, সৌদি আরব এবং মিশরের মতো দেশগুলো ভবিষ্যতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্রহ্মোস অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই প্রবণতা থেকেই স্পষ্ট যে BrahMos Missile Global Demand ক্রমাগত বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।
ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব কী?
ব্রহ্মোসকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি ম্যাক ২.৮ থেকে ৩ গতিতে উড়তে পারে, যা শব্দের গতির প্রায় তিনগুণ। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩,৭০০ কিলোমিটার, যা শত্রুপক্ষের রাডার প্রতিরোধকে কার্যত অকার্যকর করে দেয়।
এই ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। এটি স্থলভাগ, সমুদ্র, আকাশ এবং সাবমেরিন—সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপ করা যায়। ফলে যেকোনো ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর নির্ভুলতা। ব্রহ্মোস অত্যন্ত উচ্চমাত্রার টার্গেটিং ক্ষমতা রাখে, ফলে এটি শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি দ্রুত ধ্বংস করতে সক্ষম।
বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে প্রতিরক্ষা শক্তি একটি দেশের কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণ করে। এই ক্ষেত্রে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের জন্য একটি বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। BrahMos Missile Global Demand বৃদ্ধি পাওয়া শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও প্রতিফলন।
আগামী দিনে আরও বেশি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য আগ্রহ দেখাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এতে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প যেমন আরও শক্তিশালী হবে, তেমনি বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানও আরও সুদৃঢ় হবে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













