Ambubachi Mela 2026 End Date: শাক্ত ধর্মের অন্যতম প্রধান পুণ্যভূমি আসামের গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত মা কামাখ্যা মন্দির। প্রতি বছরের মতো এবারও সেখানে সাড়ম্বরে আয়োজিত হচ্ছে সনাতন ধর্মের অন্যতম বড় আধ্যাত্মিক মহাসমাবেশ— আম্বুবাচী মেলা। দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত, সাধু, এবং তান্ত্রিকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামাখ্যা ধাম।
আপনি যদি এই বছর মেলায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আপনার জানা প্রয়োজন। এই নিবন্ধে আমরা মন্দিরের কপাট খোলার সঠিক সময় এবং উৎসবের মূল মাহাত্ম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আম্বুবাচী মেলা ২০২৬-এর সময়সূচী ও মূল তারিখ (Ambubachi Mela 2026 Dates)
আম্বুবাচী উৎসব মূলত দুটি প্রধান পর্বে বিভক্ত— ‘প্রবৃত্তি’ (শুরু) এবং ‘নিবৃত্তি’ (শেষ)। ২০২৬ সালের মেলার সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার নিচে দেওয়া হলো:
- মেলা শুরু (প্রবৃত্তি): ২২ জুন, ২০২৬ (সোমবার) রাত ৯:০৮ মিনিটে মন্দিরের গর্ভগৃহের কপাট বন্ধ করা হয়।
- গর্ভগৃহ বন্ধের দিনগুলি: ২৩ জুন, ২৪ জুন এবং ২৫ জুন (টানা ৩ দিন মন্দিরে সাধারণের প্রবেশ ও পূজা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে)।
- মেলা শেষ ও কপাট খোলা (নিবৃত্তি): ২৬ জুন, ২০২৬ (শুক্রবার) সকালে বিশেষ পুজো ও শুদ্ধিকরণের পর মন্দিরের দরজা পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
Ambubachi Mela 2026 End Date: কবে এবং কখন শেষ হচ্ছে মেলা?
অফিসিয়াল তথ্য এবং তিথি অনুযায়ী, Ambubachi Mela 2026 End Date হলো ২৬ জুন, ২০২৬।
২২ জুন রাত থেকে শুরু হওয়া দেবীর বার্ষিক রজস্বলা পর্ব বা ঋতুচক্রের সময়কালটি ২৫ জুন রাতে সম্পন্ন হবে। এরপর ২৫ জুন গভীর রাতে ও ২৬ জুন ভোরে মন্দিরের পুরোহিতদের (দলৈ) দ্বারা মায়ের বিশেষ ‘শুদ্ধি স্নান’ এবং নিত্য পূজা সম্পন্ন করা হবে। সমস্ত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৬ জুন (শুক্রবার) সূর্যোদয়ের পর কামাখ্যা মন্দিরের মূল তোরণ ও গর্ভগৃহ ভক্তদের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই কপাট খোলার সঙ্গেই ২০২৬ সালের আম্বুবাচী মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মায়ের বিশেষ অঙ্গবস্ত্র বা ‘রক্তবস্ত্র’ (আম্বুবাচীর সময় দেবীর আসনে রাখা লাল কাপড়) প্রসাদ হিসেবে পাওয়ার জন্য ২৬ জুন সকাল থেকেই ভক্তদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। এটি সংগ্রহ করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করা হয়।
আম্বুবাচী উৎসবের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য
সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, আম্বুবাচীর এই চার দিন জগতের জননী মা কামাখ্যা বার্ষিক ঋতুচক্রের মধ্য দিয়ে যান। এটি নারীত্ব, উর্বরতা এবং সৃষ্টির প্রতীক।
১. প্রকৃতির বিশ্রাম: এই তিন দিন ধরিত্রী মাতাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। তাই এই সময়ে কোনো ধরনের কৃষিকাজ, খনন বা চারা রোপণ করা নিষিদ্ধ থাকে।
২. পূজা-অর্চনা বন্ধ: কামাখ্যা মন্দিরের ভেতরে কোনো মূর্তি নেই, সেখানে রয়েছে দেবীর যোনিপীঠ, যা একটি প্রাকৃতিক পাথরের ফাটল থেকে প্রবাহিত জলের ধারা। এই তিন দিন মূল পীঠস্থানটি লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয় এবং কোনো পুজো বা ভোগ দেওয়া হয় না।
৩. তান্ত্রিকদের মহাসমাবেশ: এই বন্ধ দিনগুলিতে মন্দিরের বাইরে নীলাচল পাহাড় জুড়ে এক অলৌকিক পরিবেশ তৈরি হয়। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নাগা সাধু, অঘোরী এবং তান্ত্রিকরা এখানে সিদ্ধি লাভের জন্য গোপন সাধনায় মগ্ন হন।
ভক্তদের জন্য জরুরি গাইডলাইন ও দর্শনের সময় (Travel Tips for Devotees)
২৬ জুন মেলা শেষের দিন আপনি যদি মায়ের সাধারণ দর্শন (General Darshan) করতে চান, তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
- প্রবল ভিড়: ২৬ জুন বা নিবৃত্তির দিন বছরের সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। লাখ লাখ মানুষ লাইনে দাঁড়ান। তাই খুব ভোরে বা আগের দিন রাতেই লাইনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি রাখা ভালো।
- বিকল্প রুট: ২০২৬ সালে ভিড় সামলাতে প্রশাসন পাণ্ডু অঞ্চলের দিক থেকে একটি নতুন যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করেছে, যা পুণ্যার্থীদের জন্য সহায়ক হবে।
- আবহাওয়া: জুনের এই সময়ে গুয়াহাটিতে অত্যন্ত গরম, আর্দ্রতা এবং বর্ষার প্রকোপ থাকে। তাই সঙ্গে অবশ্যই ছাতা, রেনকোট এবং ওআরএস (ORS) বা পানীয় জল রাখবেন।
- বিশেষ পাস: সাধারণ লাইনে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। মন্দিরের অফিসিয়াল কাউন্টার বা অনলাইন পোর্টাল থেকে বিশেষ দর্শনের (VIP Darshan) টিকিট বা পাসের খোঁজ নিয়ে রাখতে পারেন।
আম্বুবাচী মেলা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতির এক বিশাল মিলনমেলা। সঠিক সময়সূচী মাথায় রেখে আপনার কামাখ্যা যাত্রা সফল ও পুণ্যময় হয়ে উঠুক। জয় মা কামাখ্যা!
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













