ভারতে কৃষিক্ষেত্রে সার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সারের উপর বিপুল ভর্তুকি দিয়ে আসছে। তবে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে এবার সার ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে কৃষি ও অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ICRIER। সংস্থাটির মতে, ভর্তুকিযুক্ত দামে সার বিক্রির পরিবর্তে Fertilizer Subsidy DBT for Farmers অর্থাৎ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির অর্থ পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
Fertilizer Subsidy DBT for Farmers: কেন বাড়ছে সার ভর্তুকির চাপ?
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সার এবং সার উৎপাদনের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার প্রায় ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকা সার ভর্তুকির বাজেট নির্ধারণ করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এর আগেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে সার ভর্তুকি বাবদ সরকারি ব্যয় ২.৫১ লক্ষ কোটি টাকার রেকর্ড ছুঁয়েছিল। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
কোন রাজ্য কতটা ভর্তুকির সুবিধা পাচ্ছে?
ICRIER-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সার ভর্তুকির সুবিধা সব রাজ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। কিছু রাজ্য অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছে।
- পাঞ্জাবে প্রতি হেক্টরে নাইট্রোজেন ভর্তুকি: ২৫,৭০১ টাকা
- হরিয়ানায়: ২১,০৭১ টাকা
- আসামে: ৪,৭০৩ টাকা
- হিমাচল প্রদেশে: ৪,৭১০ টাকা
- কেরালায়: ২,৫৪০ টাকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন রাজ্যে সারের ব্যবহার, চাষের ধরন এবং ফসলের বৈচিত্র্যের কারণেই এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
Fertilizer Subsidy DBT for Farmers: সরাসরি টাকা পেলে কী লাভ হবে?
ICRIER-এর মতে, যদি ভর্তুকির অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, তাহলে কৃষকরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন। এতে ভর্তুকির সুবিধা আরও স্বচ্ছভাবে বিতরণ করা সম্ভব হতে পারে।
এছাড়া সরাসরি নগদ সহায়তা চালু হলে সরকারি ব্যয়ের হিসাব আরও স্পষ্ট হবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করাও সহজ হতে পারে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে এটি এখনো কেবল একটি নীতিগত পরামর্শ, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
কিষাণ আইডি ও এগ্রিস্ট্যাকের উন্নয়নের ওপর জোর
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Fertilizer Subsidy DBT for Farmers কার্যকর করতে হলে প্রথমে কৃষকদের তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বর্তমানে এগ্রিস্ট্যাক এবং কিষাণ আইডির মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে সব কৃষকের জন্য এক ধরনের নিয়ম প্রয়োগ করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ প্রতিটি কৃষকের জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন এবং সার ব্যবহারের চাহিদা আলাদা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভর্তুকি নির্ধারণের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া উচিত। পাশাপাশি বর্গাচাষি বা অন্যের জমিতে চাষ করা কৃষকদেরও এই ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
তথ্য সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ
ICRIER জোর দিয়ে বলেছে যে, সরাসরি নগদ ভর্তুকি চালুর আগে কৃষকদের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ভুল তথ্য সংশোধনের সহজ ব্যবস্থা, স্বচ্ছ অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করার নির্ভরযোগ্য কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
এই সংস্কারগুলো সম্পূর্ণ হওয়ার পরই Fertilizer Subsidy DBT for Farmers মডেল বাস্তবায়নের দিকে এগোনো উচিত বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সার ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান ব্যয় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে Fertilizer Subsidy DBT for Farmers মডেল একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা, নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার পরেই এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এটি শুধুমাত্র একটি নীতিগত সুপারিশ, তাই কৃষকদের জন্য বিদ্যমান সার ভর্তুকি ব্যবস্থায় এখনো কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













