FIFA World Prize Money
FIFA World Prize Money 2026 নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন ব্যাপক উন্মাদনা চলছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল দল সংখ্যার দিক থেকেই বড় নয়, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং ধনী টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা (FIFA) এবার অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা করেছে।
এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ বিশ্বকাপের FIFA World Prize Money এর সম্পূর্ণ বন্টন তালিকা, প্রাইজ পুল এবং পূর্ববর্তী রেকর্ডের বিস্তারিত আলোচনা করব।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য সর্বমোট প্রাইজ পুল নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের ৪৪০ মিলিয়ন ডলার প্রাইজ পুলের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ বা ৬৫% বেশি। ফিফার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সাফল্য এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবল সম্প্রচারের রাজস্ব বৃদ্ধির কারণেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব হয়েছে।
এই বিশাল প্রাইজ পুলকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
বিশ্বকাপের মূল আসরে কোন দল কোন পর্যায়ে বিদায় নিচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রাইজ মানি দেওয়া হবে। নিচে ২০২৬ সালের অফিশিয়াল প্রাইজ মানি বন্টন তালিকাটি দেওয়া হলো:
| টুর্নামেন্ট পজিশন / স্টেজ | প্রাইজ মানি (মার্কিন ডলারে) |
|---|---|
| চ্যাম্পিয়ন (Winner) | $৫০ মিলিয়ন (প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা) |
| রানার্স-আপ (Runner-up) | $৩৩ মিলিয়ন |
| তৃতীয় স্থান (3rd Place) | $২৯ মিলিয়ন |
| চতুর্থ স্থান (4th Place) | $২৭ মিলিয়ন |
| কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট (৫ম-৮ম স্থান) | $১৯ মিলিয়ন (প্রতিটি দল) |
| রাউন্ড অফ ১৬ (৯ম-১৬তম স্থান) | $১৫ মিলিয়ন (প্রতিটি দল) |
| রাউন্ড অফ ৩২ (১৭তম-৩২তম স্থান) | $১১ মিলিয়ন (প্রতিটি দল) |
| গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় (৩৩তম-৪৮তম স্থান) | $৯ মিলিয়ন (প্রতিটি দল) |
২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করছে। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল যদি গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ হেরে একদম শুরুতেই বিদায় নেয়, তবুও তারা খালি হাতে ফিরবে না।
যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দেশ ন্যূনতম ১২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিশ্চিতভাবে পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার কোয়ালিফিকেশন ফি এবং ২.৫ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ লজিস্টিক ও প্রস্তুতিমূলক অনুদান (Preparation Grant)। এই অনুদানটি মূলত দলগুলোর যাতায়াত, হোটেল বুকিং এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের খরচ সামলাতে অগ্রিম প্রদান করা হয়।
বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি যে দল উঁচিয়ে ধরবে, তারা পারফরম্যান্স বোনাস হিসেবে সরাসরি ৫০ মিলিয়ন ডলার পকেটে পুরবে। তবে এর সাথে যদি কোয়ালিফিকেশন ও প্রিপারেশন গ্র্যান্ট যোগ করা হয়, তাহলে চ্যাম্পিয়ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মোট আয় দাঁড়াবে ৬৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চেয়েও বেশি! ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন ডলার, যা এবারের তুলনায় অনেক কম।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই সম্পূর্ণ প্রাইজ মানি সরাসরি কোনো খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় না। টাকাটি জমা হয় বিজয়ী বা অংশগ্রহণকারী দেশের নিজস্ব জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফেডারেশন এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ চুক্তি (Collective Bargaining Agreement) স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী মোট প্রাইজ মানির ২০% থেকে ৩০% সাধারণত স্কোয়াডের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের বোনাস হিসেবে দেওয়া হয়। বাকি বড় অংশটি দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল উন্নয়ন, স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণ এবং একাডেমি পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন আর্থিক বিপ্লব এনেছে। বিপুল পরিমাণ এই FIFA World Prize Money শুধু ফুটবলারদের মাঠের লড়াইকেই আকর্ষণীয় করে তুলবে না, বরং অংশগ্রহণকারী ছোট দেশগুলোর ফুটবল কাঠামোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করবে।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News
This post was last modified on 17 July 2026 5:53 PM
জাতীয় স্তরের অন্যতম কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট (NEET UG)-এর ফলাফল প্রকাশিত হতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে… Read More
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড়… Read More
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-Kisan) যোজনার অধীনে দেশের কোটি কোটি কৃষক প্রতি বছর ৬,০০০ টাকা… Read More
IBM Losses 70 Billion Dollars: বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস… Read More
পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ করতে প্রতি বছর GP… Read More
Krishak Bandhu Prakalpa: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সফল প্রকল্প হলো কৃষক বন্ধু প্রকল্প।… Read More