Malda Gherao Case Mastermind Arrests: মালদা জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। এসআইআর‑এর কাজে যুক্ত সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) সরাসরি দায়ী করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার, ২ এপ্রিল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীরা ওই সাতজন কর্মকর্তাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া মন্তব্য
মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার জন্য আমি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বেসামরিক ও পুলিশ প্রশাসনের উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তাদের একের পর এক বদলি করা হয়েছে, যার ফলে আইন‑শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব হওয়ার অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার হাতে কোনো ক্ষমতাই নেই। এত কঠোর ও নজিরবিহীন নির্বাচন কমিশন আমি আগে কখনও দেখিনি।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের নামে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন বানচাল করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার ছক কষছে।
জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “বিজেপিতে সাম্প্রদায়িক শক্তি আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু সাম্প্রদায়িক মানসিকতার লোক আমাদের মধ্যেও অনুপ্রবেশ করেছে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Malda Gherao Case নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান
এদিকে, মালদা জেলার এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জিম্মি করার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত এই ঘটনাকে “চরম নিন্দনীয়” আখ্যা দিয়ে রাজ্যের আইন‑শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) সহ শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙার পাশাপাশি চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার লক্ষ্যেই ঘটানো হয়েছে।
সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের সম্ভাবনা
সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানোর অনুমতি দিয়েছে। প্রয়োজনে সিবিআই (CBI) বা এনআইএ (NIA)‑কে দিয়ে তদন্ত করানো যেতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “রাজ্যে আইন‑শৃঙ্খলা কার্যত ভেঙে পড়েছে।” ঘটনার পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হওয়ায় রাজ্য কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করা হয়।
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জিম্মি করার অভিযোগ
আদালতে জানানো হয়েছে, মালদা জেলায় সমাজবিরোধী দুষ্কৃতকারীরা তিনজন নারীসহ সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে কার্যত জিম্মি করে রেখেছিল। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের উল্লেখ করে আদালত জানায়, এই ঘটনা শুধুমাত্র বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং সর্বোচ্চ আদালতের কর্তৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার নির্দেশ
বেঞ্চ জানিয়েছে, কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি বা তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না। আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, এসআইআর‑এর কাজে যুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, তাঁদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে।
কীভাবে ঘটেছিল ঘেরাও
কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে প্রথমে বিক্ষোভকারীরা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার দাবি তোলে। তাঁদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় বুধবার বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয় এবং কার্যালয়টি ঘিরে ফেলা হয়। সেই সময় কার্যালয়ের ভিতরে দুইজন নারী বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাও আটকে পড়েন।
সবশেষে বলা যায়, Malda Gherao Case
Malda Gherao Case শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নির্বাচন, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এই ঘটনা গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













