Trump Tariffs on Pharma Sector: বিশ্ব বাণিজ্যে ফের বড়সড় আলোড়ন তুলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ওষুধ বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। তবে এই স্বস্তি যে দীর্ঘস্থায়ী নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
কী বলা হয়েছে নতুন শুল্ক প্রস্তাবে?
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, পেটেন্টকৃত বা ব্র্যান্ডেড ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে বড় ফার্মা সংস্থার জন্য ১২০ দিন এবং ছোট সংস্থার জন্য ১৮০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই তাদের নতুন শুল্ক কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। সময়সীমা শেষ হলে এই সব ওষুধের ওপর কার্যত ১০০% শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
তবে এই নিয়ম সব দেশের ক্ষেত্রে এক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন থেকে আসা পণ্যের ওপর শুল্ক হবে মাত্র ১৫%, আর যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার আরও কম রাখা হয়েছে।
MFN চুক্তিতে ছাড়, অনশরিংয়ে শর্ত
যে সব ওষুধ কোম্পানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরে উৎপাদনে সম্মত হবে এবং একই সঙ্গে “Most Favoured Nation (MFN)” মূল্য নির্ধারণ চুক্তি গ্রহণ করবে, তারা ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত শুল্কছাড় পাবে।
MFN চুক্তির অর্থ হল—কোনও কোম্পানি বিশ্বের যে কোনও বাজারে যে সর্বনিম্ন দামে ওষুধ বিক্রি করবে, সেই একই দাম মার্কিন সরকারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনও দেশে দাম কমানো হয়, তবে সেই সুবিধা বাধ্যতামূলকভাবে আমেরিকাকেও দিতে হবে।
যেসব কোম্পানি শুধুমাত্র অনশরিং অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনে যেতে রাজি হবে কিন্তু MFN চুক্তিতে যাবে না, তাদের প্রথমে ২০% শুল্ক দিতে হবে, যা চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ১০০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
জেনেরিক ওষুধে কতটা স্বস্তি? – Trump Tariffs on Pharma Sector
বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ, বায়োসিমিলার এবং তাদের কাঁচামাল সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এক বছর পর এই সিদ্ধান্ত পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।
এছাড়া কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় বজায় থাকবে—যেমন:
- বিরল রোগের ওষুধ
- পশুস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওষুধ
- নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ
- যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে
একই সঙ্গে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করা হবে। প্রয়োজনে বহিরাগত নিরীক্ষা, অতীতের সময়সীমায় শুল্ক আরোপ এবং ভবিষ্যতে শুল্কের হার বাড়ানোর ক্ষমতাও প্রশাসনের হাতে থাকবে।
ভারতীয় ওষুধ সংস্থার উপর প্রভাব
Trump Tariffs on Pharma Sector সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতের ওষুধ শিল্পে। বিশেষ করে সান ফার্মা কিছুটা চাপে পড়তে পারে, কারণ ভারতের মধ্যে এটিই একমাত্র বড় সংস্থা যাদের ব্র্যান্ডেড ওষুধ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হয়। সংস্থার মোট আয়ের প্রায় ২০% আসে পেটেন্টকৃত ওষুধ থেকে।
তবে সান ফার্মার জন্য ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ইউরোপে উৎপাদিত তাদের জনপ্রিয় ওষুধ ইলুমিয়া (Ilumya) কম শুল্কের আওতায় পড়ায় কিছুটা লাভবান হতে পারে।
জেনেরিক কোম্পানির জন্য ভবিষ্যৎ কতটা অনিশ্চিত?
ভারত বর্তমানে আমেরিকার মোট জেনেরিক ওষুধের ৪০‑৫০% সরবরাহ করে। ভারতের মোট ওষুধ রপ্তানির প্রায় ৩৪‑৩৫% যায় মার্কিন বাজারে।
২০২৫ অর্থবর্ষে:
- মোট ওষুধ রপ্তানি ≈ ৩০ বিলিয়ন ডলার
- এর মধ্যে আমেরিকায় রপ্তানি ≈ ১০.৫ বিলিয়ন ডলার
- যার ৯৫%‑এর বেশি ছিল জেনেরিক ওষুধ
এই সময়ে মার্কিন বাজারে রপ্তানি ২০.৪% বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে এক বছর পর শুল্ক পুনর্বিবেচনার ঘোষণা ভারতীয় জেনেরিক সংস্থাগুলোর জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
শেষে বলা যায়
সংক্ষেপে বললে, Trump Tariffs on Pharma Sector নীতিতে পেটেন্টকৃত ওষুধ প্রস্তুতকারীরা বড় ধাক্কা খেলেও, জেনেরিক সংস্থাগুলো আপাতত স্বস্তিতে রয়েছে। তবে এই স্বস্তি “স্বল্পমেয়াদী”। আগামী বছরের পর্যালোচনা ভারতীয় ওষুধ শিল্পের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













