Jagannath Snan Yatra 2026: সনাতন ধর্মে মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র উৎসব। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পুরীর শ্রীক্ষেত্রে এই অলৌকিক স্নান উৎসবের আয়োজন করা হয়। মনে করা হয়, এই বিশেষ দিনটি আসলে ভগবান জগন্নাথের প্রকাশ দিবস বা জন্মদিন। আপনি যদি এই বছর স্নান যাত্রার দিনক্ষণ, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং এর পেছনের অজানা কাহিনি জানতে চান, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য। আজ আমরা আলোচনা করব-এর খুঁটিনাটি সমস্ত তথ্য।
Jagannath Snan Yatra 2026: তারিখ ও শুভক্ষণ
পঞ্জিকা এবং তিথি গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুন, সোমবার।
- পূর্ণিমা তিথি শুরু: ২৮ জুন, ২০২৬ (বিকালে)
- পূর্ণিমা তিথি শেষ: ২৯ জুন, ২০২৬ (ভোরে সূর্যোদয়ের পর মূল উৎসবের সময়কাল শুরু)
২৯ জুন ভোরে মঙ্গলা আরতির পর মহাসমারোহে শুরু হবে মূল আচার-অনুষ্ঠান। উড়িষ্যার পুরী ধাম ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন ইসকন (ISKCON) মন্দির এবং পশ্চিমবঙ্গেও এই দিনটি বিপুল উৎসাহের সাথে উদযাপিত হবে।
১০৮ কলস জল ও স্নান যাত্রার মূল আচার
স্নান পূর্ণিমার দিন সকাল থেকেই পুরীর মন্দিরে এক দিব্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গর্ভগৃহ থেকে রত্নবেদী ছেড়ে প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে ধীর পায়ে শোভাযাত্রা করে নিয়ে আসা হয় বাইরের ‘স্নান বেদী’-তে। এই বিশেষ শোভাযাত্রাকে বলা হয় পহণ্ডী বিজয়।
স্নান বেদীতে দেবতাদের নিয়ে আসার পর শুরু হয় মূল স্নান পর্ব। পুরীর মন্দিরের ভেতরে থাকা ‘সুনাকুয়া’ বা সোনার কুয়ো থেকে পবিত্র জল তোলা হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সেই জলে চন্দন, কর্পূর, জাফরান এবং বিভিন্ন সুগন্ধী ভেষজ মেশানো হয়। এরপর মোট ১০৮টি তামার কলস দিয়ে তিন দেবদেবীকে স্নান করানো হয়। শাস্ত্রমতে:
- প্রভু জগন্নাথকে ৩৫টি কলস,
- প্রভু বলভদ্রকে ৩৩টি কলস,
- দেবী সুভদ্রাকে ২২টি কলস এবং
- সুদর্শন চক্রকে ১৮টি কলস জল দিয়ে স্নান করানো হয়।
জগন্নাথ দেবের বিখ্যাত ‘হাতি বেশ’ বা গজ বেশ
স্নান যাত্রার ঠিক পরেই বিকেলবেলা ভক্তরা এক পরম সুন্দর ও অলৌকিক রূপের দর্শন পান, যা হাতি বেশ বা গজ বেশ নামে পরিচিত। স্নানের পর জগন্নাথ ও বলরামকে গণেশের রূপ বা হাতির সাজে সাজানো হয়। দেবী সুভদ্রাকে সাজানো হয় পদ্মফুলের বেশে।
হাতি বেশের পেছনের রহস্য: প্রচলিত লোককাহিনি অনুসারে, একবার গণেশজির এক পরম ভক্ত পুরী ধামে আসেন। তিনি জগন্নাথের মধ্যে তাঁর ইষ্টদেবতা গণেশকে দেখতে চেয়েছিলেন। ভক্তের মনের ইচ্ছা পূরণ করতে মহাপ্রভু স্বয়ং গজ বা হাতির রূপ ধারণ করেন। সেই থেকে প্রতি বছর স্নান যাত্রার পর এই বিশেষ বেশের প্রথা চলে আসছে।
স্নানের পর কেন অসুস্থ হন মহাপ্রভু? কী এই ‘অনবসর’?
স্নান যাত্রা শেষ হওয়ার পর একটি অত্যন্ত মানবিক লীলা শুরু হয়, যাকে বলা হয় অনবসর বা আনাসারা। টানা ১০৮ কলস ঠাণ্ডা জলে স্নান করার পর লোকবিশ্বাস অনুযায়ী মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা দেবী তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হন।
২৯ জুন স্নান যাত্রার পর থেকেই মন্দিরের দরজা সাধারণ ভক্তদের জন্য ১৫ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়:
- কোনো জাঁকজমকপূর্ণ পুজো বা রাজকীয় ভোগ নিবেদন করা হয় না।
- রাজবৈদ্যের পরামর্শে প্রভুকে আয়ুর্বেদিক ভেষজ পাচন, ফল এবং তুলসী পাতা দেওয়া হয়।
- এই ১৫ দিনে শ্রীবিগ্রহের অঙ্গরাগ বা নতুন করে রঙ করার কাজ (নবযৌবন রূপ) সম্পন্ন করেন দৈতাপতি সেবায়েতরা।
এই বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ২৯ জুন থেকে শুরু হওয়া এই অনবসর পর্ব শেষ হবে ১৫ জুলাই। এরপর ১৬ জুলাই, ২০২৬ তারিখে মহাপ্রভু সুস্থ হয়ে রথযাত্রার মাধ্যমে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
ঘরে বসে কীভাবে অংশ নেবেন স্নান যাত্রায়?
আপনি যদি ২০২৬ সালের স্নান যাত্রায় সশরীরে পুরী বা কোনো বড় মন্দিরে যেতে না পারেন, তবে ঘরে বসেই মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করতে পারেন। এই দিন সকালে স্নান সেরে ঘরের জগন্নাথ দেবের মূর্তিকে গঙ্গা জল, চন্দন ও তুলসী পাতা দিয়ে স্নান করান। প্রভুর প্রিয় ফল ও মিষ্টি ভোগ দিন এবং নাম সংকীর্তন করুন। মনে রাখবেন, ভক্তিই হলো ভগবানের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র সরল পথ।
Jagannath Snan Yatra 2026 আপনার এবং আপনার পরিবারের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই প্রার্থনাই করি। জয় জগন্নাথ!
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













