সনাতন ধর্মে একাদশী ব্রতের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর বছরজুড়ে মোট ২৪টি একাদশী আসে, যার মধ্যে আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীটি ‘যোগিনী একাদশী’ নামে পরিচিত। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এই ব্রত পালন করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। আপনি যদি এই বছর ব্রত পালনের কথা ভাবছেন, তবে আপনার জন্য Yogini Ekadashi date 2026 এবং এর সঠিক সময়সূচী জানা অত্যন্ত জরুরি।
গুগল ডিসকভারের পাঠকদের জন্য আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা যোগিনী একাদশীর সঠিক তারিখ, পুজো ও পারণের শুভ সময় এবং এর বিশেষ গুরুত্ব সহজ ভাষায় তুলে ধরলাম।
যোগিনী একাদশী ২০২৬ এর সঠিক তারিখ ও তিথি (Yogini Ekadashi date 2026)
বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালের আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি নিয়ে অনেকের মনে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হতে পারে। তবে শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী উদয়া তিথি ও গৃহস্থদের জন্য ব্রত পালনের সঠিক দিনটি নিচে দেওয়া হলো:
- একাদশী ব্রতের তারিখ: ১০ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার।
- একাদশী তিথি শুরু: ১০ জুলাই ২০২৬, সকাল ০৮:১০ মিনিটে।
- একাদশী তিথি সমাপ্ত: ১১ জুলাই ২০২৬, সকাল ০৫:২৩ মিনিটে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: গৃহস্থ জীবন যাপনকারী ভক্তদের জন্য ১০ জুলাই (শুক্রবার) ব্রত রাখা শাস্ত্রসম্মত। অন্যদিকে, বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ভক্তরা ১১ জুলাই এই ব্রত পালন করতে পারেন।
যোগিনী একাদশী ২০২৬ পারণের সময় (Parana Timing)
একাদশী ব্রত রাখার পর সঠিক সময়ে পারণ (ব্রত ভাঙা) না করলে ব্রতের পূর্ণ ফল লাভ হয় না। ২০২৬ সালের যোগিনী একাদশীর পারণের শুভ সময় হলো:
- পারণের তারিখ: ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার।
- শুভ সময়: দুপুর ০১:৫০ মিনিট থেকে বিকেল ০৪:৩৬ মিনিটের মধ্যে।
যোগিনী একাদশীর ধর্মীয় গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে এই একাদশীর গুরুত্ব বর্ণনা করেছিলেন। মনে করা হয়, কুষ্ঠ রোগ বা যেকোনো চর্মরোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং অতীত কর্মের নেতিবাচক প্রভাব (পাপ) ধুয়ে ফেলতে এই ব্রত অত্যন্ত কার্যকরী।
কথিত আছে, অলকাপুরীর রাজা কুবেরের মালী ‘হেম’ তার স্ত্রীর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিব পুজোর ফুল আনতে ভুলে যান। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে কুবের তাকে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিশাপ দেন এবং স্বর্গ থেকে মর্ত্যে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে মহর্ষি মার্কণ্ডেয়র পরামর্শে হেম আষাঢ় মাসের এই যোগিনী একাদশী ব্রত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। এই ব্রতের পুণ্যপ্রভাবেই তিনি রোগমুক্ত হন এবং পুনরায় নিজের দিব্য রূপ ফিরে পান।
একাদশী ব্রত পালনের সহজ নিয়ম ও বিধি
যোগিনী একাদশীর দিন ভগবান বিষ্ণু এবং দেবী লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। ঘরে বসে কীভাবে সঠিক নিয়মে পুজো করবেন, তা ধাপে ধাপে জেনে নিন:
- ভোরে ঘুম থেকে ওঠা: একাদশীর দিন সকালে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বা নতুন বস্ত্র পরিধান করুন।
- সংকল্প গ্রহণ: পুজোর স্থানে বসে ভগবান বিষ্ণুর সামনে হাত জোড় করে সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে ব্রত পালনের সংকল্প নিন।
- পুজো বিধি: শ্রীহরির মূর্তিতে গঙ্গা জল দিয়ে অভিষেক করুন। এরপর হলুদ ফুল, চন্দন, ধূপ-দীপ এবং নৈবেদ্য অর্পণ করুন।
- তুলসী পাতার ব্যবহার: ভগবান বিষ্ণুর পুজোয় তুলসী পাতা আবশ্যিক। তবে মনে রাখবেন, একাদশীর দিন তুলসী পাতা ছেঁড়া নিষিদ্ধ, তাই আগের দিনই পাতা তুলে রাখবেন।
- মন্ত্র জপ: পুজো করার সময় “ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়” (Om Namo Bhagavate Vasudevaya) মন্ত্রটি অন্তত ১০৮ বার জপ করুন।
একাদশীর দিনে কী খাবেন এবং কী বর্জন করবেন?
গুগল ডিসকভারে অনেক পাঠকই জানতে চান একাদশীর দিন কী খাওয়া উচিত। নিচে একটি সহজ তালিকা দেওয়া হলো:
| যা খাওয়া যাবে (সাত্বিক খাদ্য) | যা একদমই খাবেন না (বর্জিত খাদ্য) |
|---|---|
| তাজা ফলমূল ও ড্রাই ফ্রুটস | চাল, গম, বার্লি বা যেকোনো ধরনের শস্য |
| দুধ, দই এবং ছানা | ডাল, মটরশুঁটি এবং শিম জাতীয় খাবার |
| আলু, মিষ্টি আলু, সাবুদানার খিচুড়ি | পেঁয়াজ, রসুন এবং আমিষ খাবার |
| সাধারণ লবণের বদলে সৈন্ধব লবণ (Rock Salt) | সরিষার তেল এবং যেকোনো ধরনের বাইরের জাঙ্ক ফুড |
যোগিনী একাদশী কেবল উপবাসের দিন নয়, এটি মন ও আত্মাকে শুদ্ধ করার একটি পবিত্র সুযোগ। ২০২৬ সালের ১০ জুলাই সম্পূর্ণ ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করুন এবং শ্রীহরির আশীর্বাদে আপনার জীবনকে সুখ ও শান্তিতে ভরিয়ে তুলুন।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













