পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ করতে প্রতি বছর GP Birla Educational Foundation এই স্কলারশিপ প্রদান করে। আপনি যদি ২০২৬ সালে দ্বাদশ শ্রেণী (Class 12) পাস করে থাকেন এবং স্নাতক স্তরে ভর্তি হয়ে থাকেন, তবে এই স্কলারশিপের মাধ্যমে আপনি প্রতি বছর ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই স্কলারশিপে আবেদনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই আর্টিকেলে আমরা Gp Birla Scholarship 2026 Last Date এবং এর আবেদন সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করব।
Gp Birla Scholarship 2026 Last Date কবে?
জিপি বিড়লা স্কলারশিপ ২০২৬-এ নতুন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার অফিসিয়াল শেষ তারিখ হল ১৫ই জুলাই, ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না。 তাই যারা এখনো আবেদন করেননি, তারা শেষ মুহূর্তের সার্ভার জ্যাম এড়াতে GP Birla Application Guide দেখে দ্রুত আবেদন সম্পন্ন করুন।
স্কলারশিপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ (Key Highlights)
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| ফাউন্ডেশনের নাম | জিপি বিড়লা এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন |
| যোগ্য রাজ্য | পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড |
| স্কলারশিপের পরিমাণ | প্রতি বছর ₹৬০,০০০/- (এবং বই কেনার জন্য ওয়ান-টাইম গ্রান্ট) |
| আবেদনের শেষ তারিখ | ১৫ জুলাই, ২০২৬ |
| আবেদন পদ্ধতি | অনলাইন এবং অফলাইন |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | gpbirlaedufoundation.com |
আবেদনের যোগ্যতা (Eligibility Criteria)
জিপি বিড়লা স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত যোগ্যতাগুলি থাকতে হবে:
- স্থায়ী বাসিন্দা: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ অথবা ঝাড়খণ্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: শিক্ষার্থীকে ২০২৬ সালে দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- নূন্যতম নম্বর:
- WBCHSE (উচ্চ মাধ্যমিক) বা JAC বোর্ডের ক্ষেত্রে নূন্যতম ৮৫% নম্বর থাকতে হবে।
- CBSE বা ISC বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নূন্যতম ৯০% নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।
- ভর্তি: শিক্ষার্থীকে ভারতের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউশনে স্নাতক স্তরের (Undergraduate Course) যেকোনো সাধারণ বা পেশাদার কোর্সে (যেমন- BA, BSc, BCom, BTech, MBBS ইত্যাদি) ভর্তি হতে হবে।
- পারিবারিক আয়: আবেদনকারীর বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮,০০,০০০ টাকার কম হতে হবে। তবে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তে এই আয়ের সীমায় ছাড় দেওয়া হতে পারে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required)
আবেদন করার সময় নিচের নথিপত্রগুলির স্ক্যান কপি (অনলাইন) বা জেরক্স কপি (অফলাইন) প্রয়োজন হবে:
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
- দ্বাদশ শ্রেণীর (Class 12) মার্কশিট
- কলেজে ভর্তির প্রমাণপত্র বা ফি রসিদ (Admission Proof)
- অভিভাবকের বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট (Income Certificate)
- আধার কার্ড বা যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র
কীভাবে আবেদন করবেন? (How to Apply)
শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন অথবা অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইন পদ্ধতি:
- প্রথমে GP Birla Scholarship Portal-এ যান।
- নতুন আবেদনকারী হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- এরপর নির্ভুলভাবে আপনার ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য দিয়ে অ্যাপ্লিকেশন ফর্মটি পূরণ করুন।
- সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড করে ফর্মটি ‘Submit’ করুন।
- সফলভাবে সাবমিট করার পর প্রাপ্ত ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন নম্বরটি ভবিষ্যতের জন্য প্রিন্ট করে রাখুন। অনলাইন আবেদন করলে ফর্মটি আর পোস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
অফলাইন পদ্ধতি:
আপনি যদি অফলাইনে আবেদন করতে চান, তবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে GP Birla Offline Application Form ডাউনলোড করুন। ফর্মটি পূরণ করে, সমস্ত নথিপত্র যুক্ত করে শেষ তারিখের (১৫ই জুলাই, ২০২৬) মধ্যে নির্দিষ্ট ঠিকানায় কুরিয়ার বা স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া (Selection Process)
আবেদনপত্র জমা পড়ার পর একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি বা সিলেকশন কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা থাকেন। মেধা এবং আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে শর্টলিস্ট করা হয়। এরপর নির্বাচিত ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ইমেলের মাধ্যমে ডাকা হবে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
উচ্চশিক্ষার আর্থিক বাধা দূর করতে এই স্কলারশিপ একটি দারুণ সুযোগ। তাই আর দেরি না করে Gp Birla Scholarship 2026 Last Date অর্থাৎ ১৫ই জুলাই-এর মধ্যে আপনার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













