ভারতীয় শেয়ার বাজারে আজ বড়সড় ধস নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে Sensex Crash Today দেশের আর্থিক বাজারের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। দিনের লেনদেনে বিএসই সেনসেক্স প্রায় ১,৯০০ পয়েন্ট পর্যন্ত হারিয়ে ৭৬,৩০২.৪৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে এনএসই নিফটি ৫০-ও ২৪,০০০-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে নেমে গেছে।
বিনিয়োগকারীদের বিপুল ক্ষতি
বাজারের এই তীব্র পতনের প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিনিয়োগকারীদের সম্পদের ওপর। মাত্র এক দিনের মধ্যেই বাজার মূলধন থেকে প্রায় ৮.৫৬ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে। মঙ্গলবার যেখানে বিনিয়োগকারীদের মোট সম্পদের মূল্য ছিল ৪৮০.২০ লক্ষ কোটি টাকা, তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ এই পতনের অন্যতম কারণ।
ব্লু-চিপ শেয়ারেও বড় ধস
আজকের লেনদেনে সেনসেক্সের বেশিরভাগ শেয়ারই লাল চিহ্নে ছিল। ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন (ইন্ডিগো), এইচইউএল, মারুতি সুজুকি, আইটিসি, এশিয়ান পেইন্টস, ভারতী এয়ারটেল, বাজাজ ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আলট্রাটেক সিমেন্ট এবং অ্যাক্সিস ব্যাংকের মতো বড় কোম্পানির শেয়ার ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
বাজারজুড়ে বিক্রির চাপ এতটাই বেশি ছিল যে অধিকাংশ সেক্টরই নেতিবাচক অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছে।
দিনের শেষে কোথায় দাঁড়াল সেনসেক্স ও নিফটি?
বুধবারের লেনদেন শেষ হওয়ার সময় সেনসেক্স ১,৮৭৮.২৬ পয়েন্ট বা ২.৪০ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে ৭৬,৩০২.৪৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে নিফটিও উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে ২৪,০০০-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমা হারায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে ইকুইটি বাজারে চাপ আরও বেড়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তেলের বাজারে উত্থান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রভাব শুধু শেয়ার বাজারেই নয়, জ্বালানি বাজারেও দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য এক ধাক্কায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের নজর রয়েছে হরমুজ প্রণালীর দিকে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল সরবরাহ এই পথ দিয়েই হয়। যদি কোনো কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খরচ, জ্বালানির মূল্য এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর। সম্প্রতি মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমলেও, নতুন উত্তেজনা সেই স্বস্তিকে আবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Sensex Crash Today শুধু শেয়ার বাজারের একটি সাময়িক পতন নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, তেলের দামের উত্থান এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ মিলিয়ে ভারতীয় বাজারে বড় ধাক্কা দেখা গেছে। আগামী কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতির ওপরই বাজারের পরবর্তী দিক নির্ধারণ হবে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













