বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রিকস (BRICS)। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনকে (18th Brics Summit Date) ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। আপনি যদি এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইভেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য।
১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের সময়সূচী: 18th Brics Summit Date
অফিসিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের অত্যাধুনিক ভারত মণ্ডপমে এই সম্মেলনটি আয়োজিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত, কারণ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের মতো ব্রিকস-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে। এর আগে ভারত ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই দায়িত্ব পালন করেছিল।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বা থিম: 18th Brics Summit Theme
ভারতের সভাপতিত্বে এবারের ব্রিকস সম্মেলনের মূল থিম হলো— “Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability” (BRICS)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘হিউম্যানিটি ফার্স্ট’ বা ‘মানবতা প্রথম’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
কারা থাকছেন এই মেগা সম্মেলনে?
১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সম্মেলনে সশরীরে যোগ দেবেন। এছাড়া নতুন অন্তর্ভুক্ত দেশ এবং পার্টনার দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।
ব্রিকস-এর সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব
২০২৬ সালের এই সম্মেলনটি ব্রিকস-এর জন্য একটি বিশেষ মাইলফলক, কারণ এ বছর জোটটি তার প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্ণ করছে। বর্তমানে ব্রিকস একটি সুবিশাল জোটে পরিণত হয়েছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ২০২৪ সালে যুক্ত হয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়া ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগদান করেছে।
বর্তমানে এই জোট বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। এছাড়াও বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এখন ব্রিকস-এর পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে কাজ করছে।
আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়সমূহ
নয়াদিল্লির এই সম্মেলনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে:
১. পশ্চিম এশিয়া সংকট: ভারত বর্তমানে সদস্য দেশগুলোর সাথে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিরসনে একটি ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
২. সামুদ্রিক বাণিজ্য: সমুদ্রপথে অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করা ভারতের অন্যতম লক্ষ্য।
৩. ডি-ডলারাইজেশন ও পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক: নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং রাশিয়ার সাথে একটি বিশেষ পেমেন্ট সিস্টেম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারত এক্ষেত্রে তার ‘UPI’ সিস্টেমকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
৪. জলবায়ু ও প্রযুক্তি: স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির আদান-প্রদান নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে।
কেন এই সম্মেলনটি আপনার নজরে রাখা জরুরি?
এর কারণ হলো, ব্রিকস এখন আর কেবল একটি অর্থনৈতিক জোট নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠছে। ভারতের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনটি এশিয়ার শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় ক্ষেত্র হতে চলেছে।
পরিশেষে বলা যায়, 18th Brics Summit Date অর্থাৎ ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভারতের জন্য কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের নেতৃত্বের একটি বড় পরীক্ষা। নয়াদিল্লির এই সম্মেলন থেকে যে ঘোষণা আসবে, তা আগামী দশকের বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
তাই এই সম্মেলন সংক্রান্ত আরও আপডেটের জন্য আমাদের সাথে থাকুন এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হোন।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













