গাছেই ফলবে ‘কালো সোনা’: Black Pepper Farming Process ও সহজ পরিচর্যা

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Rate this post

Black Pepper Farming Process: কালো সোনা বা ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ নামে পরিচিত গোলমরিচ বিশ্বের অন্যতম দামি ও চাহিদাসম্পন্ন মসলা। দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়া এই মসলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক কৌশল ও সামান্য যত্ন নিলে যেকোনো বাগান বা বাণিজ্যিক খামার থেকে গোলমরিচ চাষের মাধ্যমে বহু বছর নিয়মিত মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।

Black Pepper Farming Process: অনুকূল মাটি ও জলবায়ু

গোলমরিচ মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফসল।

  • তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা: ২০° থেকে ৩৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং উচ্চ আর্দ্রতা এই লতানো গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য আদর্শ।
  • বৃষ্টিপাত: বার্ষিক ২০০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত গাছের জন্য চমৎকার।
  • মাটির ধরন: জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ, পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থাযুক্ত বেলে-দোআঁশ বা লাল মাটি সবচেয়ে ভালো। মাটির পিএইচ (pH) মান ৫.৫ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকা কাম্য। জমিতে কোনোভাবেই যেন পানি জমে না থাকে।

চারা তৈরি ও বংশবিস্তার

সাধারণত কাটিং বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে গোলমরিচের চারা তৈরি করা হয়।

  • সুস্থ ও ফলনশীল মাতৃগাছের লতার মাঝামাঝি অংশ থেকে ২-৩টি গিটসহ কাটিং কেটে নিতে হবে।
  • কাটিংগুলো ছায়াযুক্ত স্থানে পলি ব্যাগে বেলে-দোআঁশ মাটি ও পচা গোবরের মিশ্রণে রোপণ করতে হয়।
  • আর্দ্রতা বজায় রাখলে ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে নতুন শেকড় ও পাতা গজাতে শুরু করে।

জমি প্রস্তুত ও রোপণ পদ্ধতি

বর্ষার শুরুতে (মে-জুলাই মাস) গোলমরিচের চারা রোপণের সঠিক সময়।

ধাপবিবরণ
গর্ত তৈরি৫০×৫০×৫০ সেন্টিমিটার আকারের গর্ত খুঁড়ে ১০-১৫ দিন রোদে শুকাতে দিন।
মাটি প্রস্তুতিগর্তের উপরের মাটির সাথে ১০ কেজি গোবর সার, ৫০০ গ্রাম ট্রাইকোডার্মা ও ১০০ গ্রাম টিএসপি মিশিয়ে গর্ত ভরাট করুন।
দূরত্বগাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২.৫ থেকে ৩ মিটার এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩ মিটার বজায় রাখুন।
আশ্রয় গাছ নির্বাচনগোলমরিচ লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় একে বেড়ে ওঠার জন্য খুঁটি বা গাছের প্রয়োজন হয়। সুপারি, সুপারি জাতীয় গাছ, নারকেল বা মেহগনি গাছের গোড়ায় এই চারা চমৎকারভাবে রোপণ করা যায়।

গাছের গোড়া থেকে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার দূরে চারা লাগিয়ে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে প্রাথমিক সাপোর্ট দিন, যাতে লতা সহজে আশ্রয়ী গাছে বেয়ে উঠতে পারে।

সার প্রয়োগ ও সেচ ব্যবস্থাপনা

নিয়মিত খাদ্য উপাদান সরবরাহ না করলে গোলমরিচের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না।

  • জৈব সার: প্রতি বছর বর্ষার আগে ও পরে গাছের গোড়ায় অন্তত ৫-১০ কেজি পচা গোবর বা কেঁচো সার প্রয়োগ করতে হবে।
  • রাসায়নিক সার: পূর্ণবয়স্ক গাছে বছরে ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ২০০ গ্রাম এমওপি দুই কিস্তিতে (মে ও সেপ্টেম্বর মাসে) প্রয়োগ করুন।
  • সেচ: শুষ্ক মৌসুমে প্রতি ৭-১০ দিন পরপর হালকা সেচ দিতে হবে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি পানির অভাবও ফলন কমিয়ে দেয়। ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থাপনা

গোলমরিচের প্রধান শত্রু হলো ‘কুইক উইল্ট’ বা গোড়া পচা রোগ এবং অ্যানথ্রাকনোজ।

  • গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
  • বর্ষার শুরুতে ও শেষে গাছের গোড়ায় বোর্দো মিশ্রণ (Bordeaux mixture) বা মেটাল্যাক্সিল স্প্রে করলে গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
  • পাতায় দাগ বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে নিম তেল বা জৈব কীটনাশক ব্যবহার করাই শ্রেয়।

ফসল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ

রোপণের ৩য় বছর থেকে গোলমরিচ গাছে ফলন আসতে শুরু করে এবং একটি গাছ প্রায় ২০-২৫ বছর পর্যন্ত ফল দেয়।

  • যখন ছড়ার ভেতরের দু-একটি ফল লাল বা হলুদ হতে শুরু করে, তখন সম্পূর্ণ ছড়া ছিঁড়ে সংগ্রহ করতে হয়।
  • সংগ্রহের পর ফলগুলো ছড়া থেকে আলাদা করে গরম পানিতে ১ মিনিট চুবিয়ে নিলে শুকানোর প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
  • এরপর রোদে পরিষ্কার মেঝে বা চাটাইয়ে ৪-৫ দিন শুকিয়ে নিতে হয়। শুকিয়ে কালো ও কুঁচকানো রূপ নিলেই তৈরি হয় বাজারজাতকরণের উপযোগী প্রিমিয়াম কোয়ালিটির কালো গোলমরিচ।

বাগান বা বসতবাড়ির অব্যবহৃত উঁচু গাছকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারক্রপিং (সাথী ফসল) হিসেবে গোলমরিচ চাষ এক দারুণ লাভজনক বিনিয়োগ হতে পারে।

👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।

📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News

Sudipta

Hello Friend's, This is Sudipta Sahoo, from India. I am a Web content creator, and writer. Here my role is at Ichchekutum Bangla is to bring to you all the latest news from new scheme, loan etc. sometimes I deliver economy-related topics, it is not my hobby, it’s my interest. thank you! For tips or queries, you can reach out to him at [email protected]