বিশ্ববাজারে আবার বড়সড় অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ল মার্কিন শেয়ার বাজারে। Dow Jones Crash Today শিরোনামে মঙ্গলবার কার্যত লাল রঙে ঢেকে গেল ওয়াল স্ট্রিট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সংক্রান্ত চরম মন্তব্য এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়।
এর প্রভাব শুধু আমেরিকান বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এশীয় বাজারে তার প্রতিফলন দেখা গেছে, বিশেষ করে Gift Nifty‑তে তীব্র দরপতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যেই বদলে গেল বাজারের মেজাজ
বাজার খোলার ঠিক আগে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, সেটিই মূলত এই পতনের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালী খোলার নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগে ট্রাম্প বলেন—
“আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতার অবসান ঘটতে পারে।”
এই মন্তব্য বাজারে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও জোরালো করে তোলে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করে বসেন, যদি ইরান‑যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বাড়ে, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
খার্গ দ্বীপে হামলার খবর ঘিরে আতঙ্ক
এরই মধ্যে খবর আসে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এই দ্বীপটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।
এই তথ্য সামনে আসার পরই বাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে শুরু করেন, যার ফলে মার্কেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সূচকগুলিতে বড় পতন দেখা যায়।
মার্কিন বাজারে লাল স্রোত – Dow Jones Crash Today
বাজার খোলার সময় থেকেই মার্কিন প্রধান সূচকগুলো একের পর এক নিচে নামতে শুরু করে—
- S&P 500 সূচক প্রায় ০.৪ শতাংশ কমে যায়
- Nasdaq Composite সূচক প্রায় ০.৫ শতাংশ পতন দেখায়
- Dow Jones Industrial Average এক ধাক্কায় ২৪০ পয়েন্ট, অর্থাৎ প্রায় ০.৫ শতাংশ হারায়
বিশেষ করে প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের শেয়ারগুলিতে বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
তেলের দামে হঠাৎ আগুন
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেলের বাজারেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মার্কিন অপরিশোধিত তেল WTI প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
অন্যদিকে—
- ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ১১০ ডলারের ওপরে উঠে যায়
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে পর্যন্ত তেলের দাম কিছুটা দুর্বল অবস্থায় ছিল। কিন্তু সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তেই দাম হঠাৎ লাফ দেয়।
সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় উদ্বেগ চরমে
ট্রাম্প যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন—রাত ৮টা (ভারতীয় সময় ভোর ৫:৩০)—তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এই পুরো পরিস্থিতির অবনতি হয়। বাজার মনে করছে, এই সময়সীমার মধ্যে যদি কোনও কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সৌদি আরবের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
Gift Nifty‑তে হঠাৎ বড় ধস
এই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারের ইঙ্গিতদাতা সূচক Gift Nifty‑তে।
- ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে Gift Nifty ঊর্ধ্বমুখী ছিল
- মন্তব্যের পর সেটি এক লাফে ১১৫ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়
- সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিটে, Gift Nifty
- ১০৬ পয়েন্ট বা ০.৪৬ শতাংশ কমে
- ২৩,০২১ পয়েন্টে লেনদেন হচ্ছিল
এর ফলে অনুমান করা হচ্ছে, পরবর্তী ট্রেডিং সেশনে ভারতীয় শেয়ার বাজারেও চাপ দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে শেয়ার বাজারের গতি নির্ভর করছে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর—
- ইরান‑যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে পরবর্তী পদক্ষেপ
- হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে কিনা
- তেলের দামের ওঠানামা
এই অনিশ্চয়তা কাটতে না পারলে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন তারা।
শেষে বলা যায়
Dow Jones Crash Today শুধুমাত্র একটি বাজার পতনের খবর নয়, এটি বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রতিফলন। ট্রাম্পের এক মন্তব্যেই আবার প্রমাণ হল—ভূরাজনীতি আজও শেয়ার বাজারের গতিপথ নির্ধারণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এখন বিনিয়োগকারীদের চোখ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও পরবর্তী কূটনৈতিক ঘোষণার দিকে। পরিস্থিতি শান্ত হলে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নাহলে এই অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |
Disclaimer:
এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যগত (Information Purpose) উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এখানে উল্লিখিত কোনো তথ্যকে বিনিয়োগ পরামর্শ, স্টক সুপারিশ বা আর্থিক উপদেশ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাজার ঝুঁকির অধীন, এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধন হারানোর সম্ভাবনাও থাকে। তাই কোনো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাঠকদের নিজস্ব যাচাই‑বাছাই করার পাশাপাশি যোগ্য আর্থিক উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
Ichchekutum.com কোনো স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড বা আর্থিক পণ্যে বিনিয়োগের জন্য কোনো ধরনের সুপারিশ প্রদান করে না, এবং এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।













