India Forex Reserves Drop: ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মার্চ ২০২৬‑এ শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের ফরেক্স রিজার্ভ ১০.২৮৮ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮৮.০৫৮ বিলিয়ন ডলারে। এর আগের সপ্তাহেও রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গিয়েছিল, ফলে টানা দুই সপ্তাহে মোট রিজার্ভ কমেছে ২১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এই হঠাৎ এবং ধারাবাহিক পতন আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলছে—মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতাই কি এর মূল কারণ?
টানা দুই সপ্তাহে বড় পতন
আরবিআই‑এর তথ্য বলছে, এর আগের সপ্তাহে অর্থাৎ ২০ মার্চে শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১.৪১৩ বিলিয়ন ডলার কমে ৬৯৮.৩৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এত বড় অঙ্কের পতন বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব ভারতের অর্থনীতির উপর পড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
রেকর্ড উচ্চতা থেকে নেমে আসা
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ ছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬‑এ ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পৌঁছেছিল ৭২৮.৪৯৪ বিলিয়ন ডলারে। কিন্তু তার পর থেকেই পরিস্থিতির বদল ঘটতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান‑সংক্রান্ত উত্তেজনা, তেলের দামের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা রিজার্ভের উপর সরাসরি চাপ তৈরি করেছে।
রুপির উপর চাপ এবং আরবিআই‑এর হস্তক্ষেপ
এই সময়কালে ভারতীয় রুপিও চাপে রয়েছে। ডলারের বিপরীতে রুপির মান পড়ে যাওয়া ঠেকাতে আরবিআই বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ করে ডলার বিক্রি করছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই ফরেক্স রিজার্ভ কমছে।
রুপির অতিরিক্ত পতন রুখতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তরলতা ব্যবস্থাপনা, সুদের হার সংক্রান্ত নীতিগত সংকেত এবং বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: মার্চ মাসে ভারতের জিএসটি সংগ্রহ ৮.২% বৃদ্ধি পেয়ে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে
বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ (FCA) কমেছে
ফরেক্স রিজার্ভের সবচেয়ে বড় অংশ হল Foreign Currency Assets (FCA)। আরবিআই‑এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সপ্তাহে এই বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ ৬.৬২২ বিলিয়ন ডলার কমে ৫৫১.০৭২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
এফসিএ‑র মূল্য শুধুমাত্র ডলারের উপর নির্ভর করে না। ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড এবং জাপানি ইয়েনের মতো আন্তর্জাতিক মুদ্রার ওঠানামাও এর উপর বড় প্রভাব ফেলে, যার ফলে সামগ্রিক রিজার্ভের অঙ্ক কমবেশি হয়।
স্বর্ণ রিজার্ভেও বড় চিড়
শুধু বৈদেশিক মুদ্রা নয়, স্বর্ণ রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সপ্তাহে ভারতের স্বর্ণ রিজার্ভ ৩.৬৬৬ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫২১ বিলিয়ন ডলারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং রুপির মানের পরিবর্তন মিলিয়ে স্বর্ণ রিজার্ভের মূল্য হ্রাস পেয়েছে।
SDR ও IMF‑এ অবস্থান
তবে সব ক্ষেত্রেই পতন নয়। স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR)‑এ সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এই খাতে রিজার্ভ ১৭ মিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৮.৬৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এ ভারতের রিজার্ভ অবস্থান ১৭ মিলিয়ন ডলার কমে ৪.৮১৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাব?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ঘিরে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, তেলের দামের অপ্রত্যাশিত ওঠানামা এবং বিশ্ববাজারে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতাই এই ফরেক্স রিজার্ভ পতনের অন্যতম কারণ।
অবশ্যই পড়ুন: মালদা ঘেরাও মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার পর মুখ খুললেন মমতা
সবশেষে বলা যায়,
সামগ্রিকভাবে India Forex Reserves Drop ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক বার্তা। যদিও ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তবুও টানা পতন ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রিজার্ভের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













