Iran war impact on clothing prices: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ছে ভারতের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আগেই অনুভূত হচ্ছিল, তবে এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে আরেকটি অত্যাবশ্যক পণ্য—পোশাক। খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, যানবাহনের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়ার পাশাপাশি খুব শীঘ্রই জামা-কাপড়ের দামও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এবিপি নিউজের সাম্প্রতিক মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের টেক্সটাইল শিল্প এই আন্তর্জাতিক সংঘাতের বড়সড় ধাক্কা সামলাচ্ছে। দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের একাধিক টেক্সটাইল মিলে সরেজমিনে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য।
জ্বালানি ও কাঁচামালের দামে বড় আঘাত
টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার দিল্লি শাখার সভাপতি কমল মিশ্র জানান, চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও কাঁচামালের দামের ওপর। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে সুতির কাপড় প্রক্রিয়াকরণ খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, সিন্থেটিক কাপড়ে ব্যবহৃত পলিয়েস্টারের দাম গত দুই থেকে তিন মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের অভাব ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ শিল্পের ব্যয়ভার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু এই কারণেই উৎপাদন খরচে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ শতাংশ চাপ পড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই এসে পড়বে।
বন্দরে আটকে হাজার হাজার কন্টেইনার
যুদ্ধের প্রভাব শুধু উৎপাদন পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমল মিশ্র জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বন্দরে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টেক্সটাইল কন্টেইনার আটকে রয়েছে। আগে যেখানে একটি ৪০-ফুট কন্টেইনার পাঠাতে খরচ হতো প্রায় ১২০০ ডলার, এখন সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০০ থেকে ২০০০ ডলারে।
এই পরিস্থিতির ফলে পুরো সাপ্লাই চেইনে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পণ্যের দামে পড়ছে।
উৎপাদন কমেছে, খরচ বেড়েছে – Iran war impact on clothing prices
একটি সুতির মিলের মালিক পবন কুমার গুপ্তা এবিপি নিউজকে জানান, যুদ্ধজনিত সমস্যার কারণে তার কারখানার উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে ১৫ লাখ মিটার কাপড় উৎপাদন হতো, এখন তা নেমে এসেছে ৮ থেকে ৯ লাখ মিটারে।
তার মতে, পিএনজি-র ঘাটতি, রাসায়নিকের মূল্যবৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকট এই শিল্পকে আরও দুর্বল করে তুলছে। শুধুমাত্র গত এক মাসেই প্রসেসিং খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। প্রিন্টিং খরচ, যা আগে ৪০ টাকা ছিল, বর্তমানে বেড়ে ৫০ টাকায় পৌঁছেছে।
১০০টির বেশি রাসায়নিকের উপর নির্ভরতা
পবন গুপ্তার পুত্র ও মিলের পরিচালক দেবাংশ গুপ্ত ব্যাখ্যা করেন, একটি কাপড় তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। সুতা কাটা, বয়ন, রঞ্জন ও প্রিন্টিং—এই প্রতিটি ধাপে ১০০টিরও বেশি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এরপর সেই কাপড় গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে গিয়ে পোশাকে রূপান্তরিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার হাতে পৌঁছায়।
দেবাংশের মতে, এই সমস্ত প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কাঁচামালের বড় অংশ আসে চীন ও তুরস্ক থেকে। যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় এই কাঁচামালের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
সিন্থেটিক ফাইবারে ৩০% পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি
টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সহ-সভাপতি যোগেশ মহাজন জানান, গত এক-দুই মাসে সিন্থেটিক ফিলামেন্টের দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে অনেক মিল বাধ্য হয়ে দৈনিক উৎপাদন সময় ১৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ১০ ঘণ্টায় নামিয়ে এনেছে।
এর প্রভাব পড়েছে কার্পেট, কম্বল এবং বিছানার চাদরের মতো পণ্যে। যদিও সরকার পেট্রোলিয়াম পণ্যে শুল্কছাড় দিয়েছে, তবুও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে আসতে দিচ্ছে না।
শ্রমিক সংকটে বন্ধের মুখে বহু মিল
টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডিকে সিং বলেন, গ্যাসের অভাব ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে বহু শ্রমিক নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে সিলভাসার শিল্পাঞ্চলে প্রায় ২০ শতাংশ শ্রমিক সংকটের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তার দাবি, পলিয়েস্টার উৎপাদন ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ কমে গেছে। গোটা দেশে প্রায় ২০ শতাংশ টেক্সটাইল মিল পুরোপুরি বন্ধ, এবং ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ইউনিট অর্ধেক ক্ষমতায় চলছে।
শেষে বলা যায়,
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব এবার ভারতের পোশাক শিল্প এবং ভোক্তাদের পকেটে পড়তে চলেছে। খুব শীঘ্রই জামা-কাপড় কেনা সাধারণ মানুষের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













