Kartik Amavasya Date 2026: সনাতন ধর্মে কার্তিক মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। এই পবিত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিটি বছরের সবচেয়ে বিশেষ ও পুণ্যময় রাত হিসেবে বিবেচিত হয়। এই তিথিতে একদিকে যেমন আলো ও সমৃদ্ধির প্রতীক দীপাবলি উদযাপিত হয়, অন্যদিকে বাংলা জুড়ে আরাধনা করা হয় শক্তির দেবী মা কালীর। আপনি কি ২০২৬ সালের কার্তিক অমাবস্যার সঠিক দিনক্ষণ খুঁজছেন? সঠিক নিয়ম মেনে পুজো ও দান-ধ্যান করতে জেনে নিন Kartik Amavasya Date 2026-এর পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ও সময়সূচী।
২০২৬ সালের কার্তিক অমাবস্যা কবে? (Kartik Amavasya Date 2026)
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে কার্তিক অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ৮ নভেম্বর (রবিবার) এবং তা চলবে ৯ নভেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত।
যেহেতু দীপাবলির লক্ষ্মী পুজো এবং বাংলার শ্যামাপূজা (কালীপুজো) নিশীথকালে বা প্রদোষকালে অনুষ্ঠিত হয়, তাই মূল উৎসবটি উদযাপিত হবে ৮ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার। অন্যদিকে, উদয়া তিথি অনুসারে অমাবস্যার পুণ্যস্নান ও তর্পণাদি সম্পন্ন হবে ৯ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার।
| বিবরণ | সময় ও তারিখ |
|---|---|
| অমাবস্যা তিথি শুরু | ৮ নভেম্বর ২০২৬ (রবিবার), সকাল ১১:২৮ মিনিট থেকে |
| অমাবস্যা তিথি সমাপ্তি | ৯ নভেম্বর ২০২৬ (সোমবার), দুপুর ১২:৩২ মিনিট পর্যন্ত |
| কালীপূজা ও দীপাবলি | ৮ নভেম্বর ২০২৬ (রবিবার) |
| অমাবস্যার স্নান ও দান | ৯ নভেম্বর ২০২৬ (সোমবার) |
(দ্রষ্টব্য: স্থানীয় দ্রাঘিমাংশ ও বিভিন্ন পঞ্জিকার হিসাবভেদে সময়ের সামান্য হেরফের হতে পারে।)
কার্তিক অমাবস্যার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
হিন্দু শাস্ত্র মতে, কার্তিক মাস বিষ্ণু এবং শিব উভয়েরই অত্যন্ত প্রিয়। তবে কার্তিক অমাবস্যার মহিমা অনন্য।
- মা কালীর আরাধনা (শ্যামাপূজা): বাংলায় এই অন্ধকার অমাবস্যার নিশীথ রাতে মহাশক্তি মা কালীর পুজো করা হয়। অশুভ শক্তি ও অন্ধকার দূর করে আলোর প্রতিষ্ঠা করতেই ভক্তরা গভীর নিষ্ঠাভরে মায়ের চরণে অঞ্জলি দেন।
- মা লক্ষ্মী ও গণেশের আগমন: পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, কার্তিক অমাবস্যার রাতে সমুদ্রমন্থন থেকে দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাব হয়েছিল। এই রাতে গৃহ প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তুললে দেবী লক্ষ্মী ও সিদ্ধিদাতা গণেশ সংসারে প্রবেশ করেন এবং সুখ-সমৃদ্ধি প্রদান করেন।
- পিতৃতর্পণ ও পূর্বপুরুষের স্মৃতি: অমাবস্যা তিথি পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ, পিন্ডদান ও অন্নদানের জন্য অত্যন্ত প্রশস্ত। কার্তিক অমাবস্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে পূর্বপুরুষদের পথ দেখানো হয়, যা ‘আকাশপ্রদীপ’ বা দীপদান নামে পরিচিত।
কার্তিক অমাবস্যায় কী করবেন এবং কী করবেন না?
এই পবিত্র তিথির পুণ্যফল লাভ করতে শাস্ত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
করণীয় কাজ:
- পুণ্যস্নান: ভোরে উঠে গঙ্গাস্নান বা যেকোনো পবিত্র নদীতে স্নান করা অত্যন্ত শুভ। গঙ্গায় যাওয়া সম্ভব না হলে বাড়িতে স্নানের জলে সামান্য গঙ্গার জল মিশিয়ে স্নান করুন।
- দীপদান: সন্ধ্যায় ঘরের সদর দরজা, তুলসীতলা, ঠাকুরঘর এবং উঠোনে মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করুন। অমাবস্যার অন্ধকার কাটিয়ে এই আলো ইতিবাচক শক্তি বহন করে।
- অন্ন ও বস্ত্র দান: অভাবী ও দুস্থ ব্যক্তিদের সাধ্যমতো খাবার, মিষ্টি বা বস্ত্র দান করুন। শাস্ত্রমতে, এই তিথির দান অক্ষয় পুণ্য এনে দেয়।
- মন্ত্র জপ: মা কালী বা মা লক্ষ্মীর স্তোত্র পাঠ করুন এবং ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায় জপ করুন।
বর্জনীয় কাজ:
- এই পবিত্র দিনে বাড়িতে কোনো ধরনের তামসিক খাবার (মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন) বা মদ্যপান বর্জন করা শ্রেয়।
- ঘরে বা পরিবারের কারও সঙ্গে অযথা কলহ, বিতর্ক বা কটূ বাক্য ব্যবহার করবেন না।
- অমাবস্যার দিনে ঘর অপরিচ্ছন্ন বা অন্ধকার রাখবেন না।
২০২৬ সালের কার্তিক অমাবস্যা পরিবারে শুভ শক্তির বিকাশ ঘটাক এবং আপনার জীবনকে ভরে তুলুক আনন্দ, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধিতে। উৎসবের আয়োজন সফল করতে এই তিথি ও শুভ মুহূর্তের হিসাব আগে থেকেই ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত করে রাখুন।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













