Middle East war on Day 25: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ২৫তম দিনে গড়ালেও উত্তেজনার পারদ কমেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে শাসন পরিবর্তন সম্ভব কি না—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ভূমিকা ও পরিকল্পনা।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা প্রধান ডেভিড বারনিয়া সম্প্রতি দেশটির মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন, তেহরানে শাসন পরিবর্তন অসম্ভব নয়, তবে এটি কোনো দ্রুত প্রক্রিয়া নয়। তাঁর মতে, কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহে নয়—এই পরিবর্তনে প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মোসাদ প্রধান কী বলেছিলেন মন্ত্রিসভায়?
জেরুজালেম পোস্ট‑এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর ঠিক একদিন আগে মোসাদ প্রধান ইসরায়েলি নেতৃত্বের কাছে সম্ভাব্য কৌশল ও সময়রেখা তুলে ধরেন। বারনিয়ার মূল্যায়ন ছিল—ক্ষমতার হস্তান্তর তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবে তা নির্ভর করবে একাধিক জটিল শর্তের ওপর।
তিনি এই প্রক্রিয়াকে “সহজ” বললেও সতর্ক করেন যে, মাঠের বাস্তবতা, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার কারণে সময় আরও বাড়তে পারে। ফলে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ফলাফল হিসেবে শাসন পরিবর্তন হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরিকল্পনা কী ছিল?
নিউইয়র্ক টাইমস‑এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মোসাদ প্রধান ইসরায়েলি নেতৃত্ব এবং তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ভেতরে বিরোধী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে সহায়তা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই ধারণার পেছনে যুক্তি ছিল—যদি বিরোধীরা একজোট হয়, তাহলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও বিদ্রোহ শুরু হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটাতে পারে। তবে বাস্তবে সেই চিত্র দেখা যায়নি।
যুদ্ধ শুরুর তিন সপ্তাহ পরেও ইরানে বড় ধরনের গণবিদ্রোহ না হওয়ায় মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, যদিও ইরানি সরকার চাপের মুখে ছিল, তবুও তা তখনও ভেঙে পড়েনি।
প্রথম লক্ষ্য ছিল শীর্ষ নেতৃত্ব
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেভিড বারনিয়ার কৌশলের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা। এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি সাধন করাও ছিল পরিকল্পনার অংশ।
এই আঘাতগুলো একসঙ্গে কার্যকর হলে ইরানের বর্তমান সরকারের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়বে—এমনটাই ছিল ধারণা। তবে মোসাদ প্রধান একইসঙ্গে স্বীকার করেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনে কিছু শর্ত এবং বাস্তব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে।
শেষ সিদ্ধান্ত কার হাতে? – Middle East war on Day 25
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয়েই শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সামরিক চাপ তেহরানে শাসন পরিবর্তনের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে দু’জনেই পরিষ্কার করে দেন, চূড়ান্ত উদ্যোগ ইরানের জনগণকেই নিতে হবে।
অর্থাৎ বাইরের শক্তি সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ গণআন্দোলন ছাড়া কোনো স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়—এই বাস্তবতাই আবারও সামনে এসেছে।
সবশেষে বলা যেতে পারে,
২৫ দিনের যুদ্ধ ইরানের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করলেও দ্রুত শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ, জটিল এবং বহু শর্তসাপেক্ষ। আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন গোটা বিশ্বের নজরে।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













