Varuthini Ekadashi 2026: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও ফলদায়ক একটি তিথি। একাদশী ভগবান বিষ্ণুর প্রিয় দিন হিসেবে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠাভরে একাদশীর ব্রত পালন করলে শ্রীহরির কৃপা লাভ হয় এবং জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে বছরে মোট ২৪টি একাদশী ব্রত পালন করা হয়—প্রতিটি মাসে কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষে দুটি করে। এর মধ্যে বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী হলো বরুথিনী একাদশী।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বরুথিনী একাদশীতে উপবাস ও বিষ্ণু পূজা করলে পাপক্ষয় হয়, ভয় ও দুঃখ থেকে মুক্তি মেলে এবং দশ হাজার বছরের তপস্যার সমতুল্য পুণ্য অর্জিত হয়। এমনকি মোক্ষলাভের পথও সুগম হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। ২০২৬ সালে এই একাদশীতে বিশেষ দুটি শুভ যোগও গঠিত হচ্ছে, যা ব্রতের মাহাত্ম্য আরও বৃদ্ধি করেছে।
বরুথিনী একাদশী ২০২৬ তারিখ ও তিথি
হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, বৈশাখ কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি শুরু হবে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ভোর ১:১৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ভোর ১:০৮ মিনিটে। উদয়তিথি অনুসারে, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ বরুথিনী একাদশী ব্রত পালন করা হবে।
বরুথিনী একাদশীতে ২টি শুভ যোগ
Varuthini Ekadashi 2026-এ দুটি অত্যন্ত শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে—
- বরুথিনী যোগ: ভোর থেকে বিকেল ৫:১৭ মিনিট পর্যন্ত
- এর পর গঠিত হবে শুক্ল যোগ
এই দিনে ধনিষ্ঠা নক্ষত্র থাকবে ভোর থেকে বিকেল ৪:০৩ মিনিট পর্যন্ত। পরে শুরু হবে শতভিষা নক্ষত্র। এই শুভ যোগ ও নক্ষত্রের প্রভাব ব্রত পালনের পুণ্যফল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বরুথিনী একাদশী পূজার শুভ সময়
এই পবিত্র দিনে বিষ্ণু পূজা ও উপবাসের জন্য নির্ধারিত শুভ সময়গুলো হলো—
- অমৃত (সর্বোত্তম) মুহূর্ত: ভোর ৫:৫৮ – সকাল ৭:৩৪
- শুভ মুহূর্ত: সকাল ৯:১০ – ১০:৪৬
এছাড়া,
- ব্রহ্ম মুহূর্ত (স্নান): ভোর ৪:২৮ – ৫:১৩
- অভিজিৎ মুহূর্ত: সকাল ১১:৫৬ – দুপুর ১২:৪৭
এই সময়ে স্নান, পূজা, মন্ত্রজপ ও ধ্যান বিশেষ ফল প্রদান করে।
বরুথিনী একাদশী ২০২৬ পারণ (উপবাস ভঙ্গ) সময়
বরুথিনী একাদশীর ব্রত ভঙ্গ করা হবে ১৪ এপ্রিল ২০২৬,
পারণের সময়: সকাল ৬:৫৪ – ৮:৩১
এই দিন সকাল ৬:৫৪ মিনিটে হরিবাসর শেষ হবে, এরপর উপবাস ভঙ্গ করা শ্রেয়।
বরুথিনী একাদশীতে জলদানের বিশেষ গুরুত্ব
বৈশাখ মাসের প্রথম একাদশী হওয়ার কারণে এই দিনে জলদান অত্যন্ত পুণ্যফলদায়ক বলে ধরা হয়। ভগবান বিষ্ণুর পূজা শেষে জল, মিষ্টি পানীয় বা ছায়াদানের ব্যবস্থা করলে দ্রুত তাঁর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। শাস্ত্র মতে, বৈশাখ মাসে দান, জপ, তপস্যা ও কীর্তন করলে অক্ষয় পুণ্য অর্জিত হয়।
বরুথিনী একাদশীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ও উপবাসের নিয়ম
“বরুথিনী” শব্দের অর্থ সুরক্ষা—এই একাদশী ভক্তদের নেগেটিভ শক্তি ও অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষা করে বলে বিশ্বাস। এই ব্রত পালনে মানসিক শান্তি, আত্মশুদ্ধি ও সমৃদ্ধি লাভ হয়।
উপবাসের নিয়ম অনুযায়ী—
- ভাত, শস্য, পেঁয়াজ ও রসুন পরিহার করা হয়
- ফল, দুধ, বাদামসহ সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করা যায়
- ইচ্ছুক ভক্তরা নির্জলা ব্রতও পালন করেন
পাশাপাশি বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ, ব্রতকথা শ্রবণ, ধ্যান ও দান–এই সবই ব্রতকে পূর্ণতা দেয়। অভাবীদের খাদ্য বা বস্ত্র দান করলে বরুথিনী একাদশীর পুণ্য আরও বৃদ্ধি পায়।
শেষে বলা যায়
Varuthini Ekadashi 2026 শুধু একটি ব্রত নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার এক বিশেষ সুযোগ। সঠিক তিথি, শুভ সময় ও বিধি মেনে এই ব্রত পালন করলে জীবনে শান্তি, সাফল্য ও ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ নিশ্চিতভাবেই লাভ করা যায়।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













