New Gas Policy for LPG Consumers: পাইপযুক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি) সংযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা তা ব্যবহার করছেন না, তাদের জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। মঙ্গলবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পিএনজি সংযোগ না নিলে বা ব্যবহার শুরু না করলে গৃহস্থালি এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
২৪ মার্চ জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেখানে পিএনজি পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের বাধ্যতামূলকভাবে পাইপলাইন গ্যাসে যেতে হবে। অন্যথায় তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় এলপিজি সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ (পাইপলাইন ও অন্যান্য সুবিধা স্থাপন, নির্মাণ, পরিচালনা ও সম্প্রসারণ) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এই নির্দেশিকা অপরিহার্য পণ্য আইন, ১৯৫৫‑এর আওতায় কার্যকর হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? – New Gas Policy for LPG Consumers
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব এলাকায় ইতিমধ্যেই পাইপলাইন পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে এলপিজি ব্যবহার অব্যাহত রাখা যুক্তিযুক্ত নয়। ওই এলপিজি সিলিন্ডারগুলো সেই সব অঞ্চলে পাঠানো হবে, যেখানে এখনও পাইপলাইন গ্যাস পৌঁছয়নি।
কারা ছাড় পাবেন?
তবে নির্দেশিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ের কথাও বলা হয়েছে। যদি কোনো এলাকায় পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ দেওয়া প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জন্য এলপিজি সরবরাহ বন্ধ হবে না। সে ক্ষেত্রে অনুমোদিত সংস্থা থেকে একটি নো‑অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) সংগ্রহ করতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত কারণে যেখানে পিএনজি সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, সেই সমস্ত তথ্যের নথি সংরক্ষণ করবে অনুমোদিত সংস্থা। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে এনওসি প্রত্যাহার করা হতে পারে।
আদেশে কী কী বলা হয়েছে?
নতুন নির্দেশিকায় পাইপলাইন পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য ও সম্প্রচার ব্যুরো (PIB) জানায়—
- পাইপলাইন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দিলে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।
- সরকারি বা স্থানীয় সংস্থা এই কাজে আলাদা কর, ফি, সারচার্জ বা ডেভেলপমেন্ট চার্জ আরোপ করতে পারবে না।
- আবাসিক এলাকায় আবেদন জমা পড়লে তিন কার্যদিবসের মধ্যে অনুমতি দিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেষ‑মাইল পিএনজি সংযোগ সম্পন্ন করতে হবে।
- আবাসন কমপ্লেক্সে পাইপলাইন বসাতে বাধা দিলে নোটিস জারি হবে এবং তিন মাস পর এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
- অনুমোদিত সংস্থাকে চার মাসের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু করতে হবে, নাহলে জরিমানা ও একচেটিয়া সুবিধা হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক বোর্ড (PNGRB)‑কে।
সরকারের বক্তব্য
এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তেল সচিব নীরজ মিত্তল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স‑এ পোস্ট করে বলেন, “সহজে ব্যবসা করার সংস্কারের মাধ্যমে এই সংকটকে সুযোগে পরিণত করা হচ্ছে।” সরকারের মতে, দীর্ঘমেয়াদি শক্তি সুরক্ষার জন্য জ্বালানির বৈচিত্র্য এখন অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে, এই নতুন গ্যাস নীতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—যেখানে পাইপলাইন গ্যাস রয়েছে, সেখানে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমাতেই চায় কেন্দ্র। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনই ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে দেশ।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













