Mahavir Jayanti 2026 Date: জৈনধর্মের ২৪তম ও শেষ তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর যে পবিত্র উৎসব পালিত হয়, তা মহাবীর জয়ন্তী বা মহাবীর জন্ম কল্যাণক নামে পরিচিত। ২০২৬ সালে এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবটি পালিত হবে ৩১শে মার্চ, মঙ্গলবার।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহাবীর জয়ন্তী চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয়। এই দিনে জৈন সম্প্রদায়ের মানুষজন ভগবান মহাবীরের অহিংসা, সত্য ও আত্মসংযমের আদর্শ স্মরণ করে বিশেষ প্রার্থনা, শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
📅 মহাবীর জয়ন্তীর তারিখ ও সময় – Mahavir Jayanti 2026 Date
মহাবীর জয়ন্তী ২০২৬ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তিথি ও সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো –
- মহাবীর জয়ন্তী তারিখ: ৩১শে মার্চ ২০২৬ (মঙ্গলবার)
- ত্রয়োদশী তিথি শুরু: ৩০ মার্চ ২০২৬, সকাল ০৭:১০
- ত্রয়োদশী তিথি শেষ: ৩১ মার্চ ২০২৬, সকাল ০৬:৫৬
মহাবীর জয়ন্তীর তাৎপর্য
ভগবান মহাবীর জৈনধর্মের ২৪তম এবং শেষ তীর্থঙ্কর হিসেবে পূজিত। তিনি মানবজাতিকে অহিংসা, সত্য, সংযম ও ত্যাগের পথ দেখিয়েছিলেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি রাজকীয় জীবন ও সমস্ত ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে কঠোর তপস্যার মাধ্যমে কেবল জ্ঞান বা পরম জ্ঞান অর্জন করেন।
মহাবীর জয়ন্তী ‘মহাবীর জন্ম কল্যাণক’ নামেও পরিচিত। জৈন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান মহাবীরের জন্মের আগে তাঁর মা রাণী ত্রিশালা ১৪ অথবা ১৬টি শুভ স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা পৃথিবীতে এক মহান আত্মার আবির্ভাবের ইঙ্গিত বহন করে।
মহাবীর জয়ন্তী ২০২৬ আচার-অনুষ্ঠান
মহাবীর জয়ন্তীর দিনে জৈন মন্দিরগুলো আলোকসজ্জা ও ফুল দিয়ে সজ্জিত করা হয়। ভক্তরা ভোরে উঠে দুধ ও জল দিয়ে ভগবান মহাবীরের প্রতিমূর্তিতে অভিষেক সম্পন্ন করেন।
এই উপলক্ষে শহরজুড়ে বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যেখানে মহাবীরের পালকি বহন করা হয়। অনেকেই উপবাস পালন করেন, দান‑ধ্যান করেন এবং অহিংসা ও সত্য বিষয়ে মহাবীর স্বামীর উপদেশ পাঠ ও শ্রবণে অংশ নেন।
ভগবান মহাবীর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ভগবান মহাবীরের জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৯ সালে বিহারের বৈশালীতে, রাজা সিদ্ধার্থ ও রাণী ত্রিশালার ঘরে। তিনি জৈন ধর্মের ২৪তম ও শেষ তীর্থঙ্কর ছিলেন।
তিনি অহিংসা, সত্যবাদিতা, ব্রহ্মচর্য, অচৌর্য ও অপরিগ্রহ—এই পাঁচ মূল আদর্শকে জীবনে ধারণ করতে মানুষকে উৎসাহিত করেছিলেন।
ভগবান মহাবীরকে বর্ধমান, বীর, অতিবীর, মহাবীর ও সন্মতি—এই পাঁচটি নামে ডাকা হয়।
তপস্যার এক পর্যায়ে তিনি সমস্ত বস্ত্র ত্যাগ করেন এবং নিজের চুল গোড়া থেকে উপড়ে ফেলেন, যা ছিল চরম ত্যাগ ও দুঃখজয়ের প্রতীক। জৈনদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এরপর তিনি আর কখনও বস্ত্র পরিধান করেননি।
কোথায় কোথায় মহাবীর জয়ন্তী জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়
ভগবান মহাবীরের জন্মস্থান বিহারের বৈশালীতে এই দিনটি অত্যন্ত উৎসাহ ও ভক্তির সঙ্গে পালিত হয়, যা বৈশালী মহোৎসব নামেও পরিচিত।
এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন বিখ্যাত জৈন তীর্থস্থানে মহাবীর জয়ন্তী বিশেষভাবে উদযাপিত হয়, যেমন—
উদয়গিরি গুহা (ওড়িশা)
পালিতানা (গুজরাট)
রণকপুর (রাজস্থান)
শ্রাবণবেলাগোলা (কর্ণাটক)
দিলওয়ারা মন্দির (রাজস্থান)
খণ্ডগিরি গুহা (ওড়িশা)
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













