ভারতের আকাশপথে বড়সড় সমস্যা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। জ্বালানির লাগামছাড়া দাম বাড়ার কারণে বিমান সংস্থাগুলি সরকারকে সতর্ক করেছে – Flights Can Be Cancelled। বিমান সংস্থাগুলির মতে, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করলে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক – দু’ধরনের ফ্লাইটই প্রভাবিত হতে পারে।
Flights Can Be Cancelled: সরকারকে কেন চিঠি দিল বিমান সংস্থাগুলি?
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA) বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রককে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছে।
এই সংগঠনের সদস্য এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও স্পাইসজেট।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতার কারণে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)‑এর দাম নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।
এই অতিরিক্ত খরচ বিমান সংস্থাগুলির পক্ষে বহন করা দিনে দিনে কঠিন হয়ে উঠছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কীভাবে দামের আগুন জ্বালাল?
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক শক্তির বাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এর ফলেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম হঠাৎ করে বেড়েছে।
এক সময় যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭২ ডলার, সেখানে তা বেড়ে ১১৮ ডলারে পৌঁছায়।
এই ধাক্কাই এটিএফের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এটিএফ‑এর দাম কতটা বেড়েছে?
এই মুহূর্তে এটিএফ‑এর দাম একটি বড় আতঙ্কের কারণ।
- আগে: প্রায় ৮৭ ডলার প্রতি ব্যারেল
- সর্বোচ্চ: ২৬০ ডলারের বেশি
- বর্তমানে: প্রায় ২৩৫ ডলার
মোটের উপর এই বৃদ্ধি প্রায় ২৯৫ শতাংশ – যা বিমান শিল্পের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
‘ক্র্যাক স্প্রেড’ নিয়ে কেন এত আপত্তি?
বিমান সংস্থাগুলি ‘ক্র্যাক স্প্রেড’ নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ক্র্যাক স্প্রেড মানে—অপরিশোধিত তেল আর এটিএফ দামের ব্যবধান।
আগে এই ব্যবধান ছিল মাত্র ১১–১৮ ডলার।
এখন তা বেড়ে প্রায় ১৩২ ডলারে পৌঁছেছে।
এফআইএ‑র দাবি, এই অস্বাভাবিক ব্যবধান কার্যত তেল কোম্পানিগুলির বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করছে।
খরচের চাপ কোথায় সবচেয়ে বেশি পড়ছে?
সাধারণত বিমান পরিচালনার মোট খরচের ৩০–৪০ শতাংশ জ্বালানির জন্য ব্যয় হয়।
এখন সেই হার বেড়ে ৫৫–৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে আন্তর্জাতিক রুটগুলিতে।
অনেক ফ্লাইট আগেই লোকসানে চলছিল, এখন সেই লোকসান আরও বেড়েছে।
রুপির দুর্বলতা সমস্যা বাড়াচ্ছে
শুধু জ্বালানির দাম নয়, রুপির মূল্যপতন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
কারণ বিমানের লিজ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত খরচের বড় অংশ ডলারে পরিশোধ করতে হয়।
ফলে আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক দ্রুত বাড়ছে।
Flights Can Be Cancelled: যাত্রীদের জন্য কী বোঝাচ্ছে?
বিমান শিল্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—
ত্রাণ প্যাকেজ না এলে Flights Can Be Cancelled হওয়া খুবই বাস্তব সম্ভাবনা।
এর প্রভাব হতে পারে—
- ফ্লাইট সংখ্যা কমে যাওয়া
- কিছু রুট সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া
- টিকিটের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
- পর্যটন ও ব্যবসায়িক যাত্রায় ধাক্কা
সরকারকে ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে বলছে FIA?
বিমান সংস্থাগুলি তিনটি জরুরি দাবিতে জোর দিয়েছে—
১️⃣ ক্র্যাক ব্যান্ড ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা
২০২২ সালে চালু হওয়া এবং ২০২৪‑এ বন্ধ হওয়া সেই ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি করা হয়েছে।
২️⃣ আবগারি শুল্ক কমানো
দেশীয় ফ্লাইটে এটিএফ‑এর উপর থাকা ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে কমাতে বলা হয়েছে।
৩️⃣ রাজ্যভিত্তিক ভ্যাট হ্রাস
দিল্লিতে ২৫% ও তামিলনাড়ুতে ২৯% পর্যন্ত ভ্যাট নেওয়া হচ্ছে, যা অবিলম্বে কমানোর দাবি জানানো হয়েছে।
শেষ কথা বলা যায় যে
এই মুহূর্তে ভারতীয় বিমান শিল্প এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে।
দ্রুত এবং কার্যকর সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া Flights Can Be Cancelled আশঙ্কা এড়ানো কঠিন হবে।
আগামী কয়েক দিনেই পরিষ্কার হবে—আকাশপথে স্বস্তি ফিরবে, নাকি যাত্রীদের আরও চাপের মুখে পড়তে হবে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













