Navratri 2026 Day 3 Devi: শারদীয় নবরাত্রির প্রতিটি তিথি মহাশক্তির এক একটি অনন্য রূপের সাধনার বার্তা বহন করে। এই পবিত্র উৎসবের তৃতীয় দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এদিন আরাধনা করা হয় দেবী দুর্গার তৃতীয় রূপ মা চন্দ্রঘণ্টার। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নবরাত্রির তৃতীয় দিনে ভক্তিভরে দেবীর অর্চনা করলে মনের ভয় দূর হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পরিবারে ইতিবাচক শক্তির বিকাশ ঘটে। আসুন জেনে নিই এই বিশেষ দিনের তাৎপর্য, দেবীর স্বরূপ এবং সঠিক পূজাপদ্ধতি।
মা চন্দ্রঘণ্টার রূপ ও পৌরাণিক মাহাত্ম্য
মায়ের কপালে ঘণ্টার আকৃতির অর্ধচন্দ্র শোভা পায়, তাই তিনি ‘চন্দ্রঘণ্টা’ নামে খ্যাত। স্বর্ণবর্ণের এই দেবী দশভুজা। দেবীর হস্তসমূহে শোভিত থাকে ত্রিশূল, গদা, তরবারি, ধনুর্বাণ, পদ্ম এবং কমণ্ডলু। তিনি সিংহ বা বাঘের পিঠে আসীন, যা অদম্য সাহসের প্রতীক।
পৌরাণিক আখ্যান অনুসারে, দেবাসুর সংগ্রামে যখন অশুভ শক্তি ধরণীকে গ্রাস করছিল, তখন মহাশক্তি এই রণচণ্ডী রূপে আবির্ভূত হন। তাঁর গলার ঘণ্টার ঘণ্টাধ্বনি দানব ও অশুভ আত্মাদের হৃদয়ে কম্পন সৃষ্টি করেছিল। একই সঙ্গে এই ঘণ্টাধ্বনি ভক্তদের চিত্তে এনে দেয় গভীর প্রশান্তি ও একাগ্রতা। ভয় নাশ করে নির্ভীক চরিত্র গঠনে দেবীর এই রূপ অতুলনীয়।
তৃতীয় দিনের পূজাবিধি: ধাপে ধাপে নিয়ম
নবরাত্রির তৃতীয় দিনে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা ফলপ্রসূ হয়:
- প্রাতঃকালীন প্রস্তুতি: সূর্যোদয়ের পূর্বে স্নান সেরে পরিচ্ছন্ন ও উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরিধান করুন।
- ঘট স্থাপন ও স্থান শুদ্ধি: পুজোর স্থান গঙ্গাজল ছিটিয়ে পবিত্র করুন। দেবীর ঘটের সামনে একটি প্রদীপ প্রজ্বলন করুন।
- পুষ্প ও নৈবেদ্য নিবেদন: মা চন্দ্রঘণ্টার পুজোয় লাল ও হলুদ ফুল অত্যন্ত প্রিয়। পদ্ম বা জবা ফুল মায়ের চরণে অর্পণ করতে পারেন।
- ভোগ অর্পণ: মায়ের অত্যন্ত প্রিয় ভোগ হলো দুধ ও দুধজাত মিষ্টান্ন (যেমন পায়েস বা ক্ষীর)। বিশ্বাস করা হয়, এই ভোগ নিবেদনে মানসিক দুশ্চিন্তা ও দৈহিক রোগব্যাধি হ্রাস পায়।
- মন্ত্র জপ: পুজো চলাকালীন একাগ্র চিত্তে দেবীর ধ্যানমন্ত্র জপ করুন:“পিণ্ডজপ্রবরারূঢ়া চণ্ডকোপাস্ত্রকৈর্যুতা। প্রসাদং তনুতে মহ্যং চন্দ্রঘণ্টেতি বিশ্রুতা॥”
আধ্যাত্মিক দিক: মণিপুর চক্র জাগ্রত করার তিথি
যোগশাস্ত্রে নবরাত্রির তৃতীয় দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণ। সাধকদের বিশ্বাস, এই দিনে মন প্রবিষ্ট হয় নাভিদেশের মণিপুর চক্রে (Solar Plexus Chakra)। মণিপুর চক্র মানুষের ইচ্ছাশক্তি, তেজ ও আত্মবিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল।
যাঁরা মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব, সিদ্ধান্তহীনতা বা কোনো অজানা ভয়ে ভোগেন, তাঁদের জন্য মা চন্দ্রঘণ্টার ধ্যান এক গভীর অভ্যন্তরীণ রূপান্তরের সূচনা করে। সাধকের একাগ্রতা যখন ঘণ্টার ধ্বনির মতো একমুখী হয়, তখন তাঁর মধ্যে দিব্য দৃষ্টি ও অলৌকিক সুগন্ধি অনুভূতির সঞ্চার ঘটে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
Navratri 2026 Day 3 Devi : সৌভাগ্য আনবে তৃতীয় দিনের বিশেষ রঙ
এই তিথিতে ধূসর (Grey) অথবা উজ্জ্বল কমলা বা সোনালি রঙের ব্যবহার শুভ বলে গণ্য হয়। ধূসর রঙ ভারসাম্য, মানসিক স্থিরতা এবং সংকল্পের প্রতীক। পূজার দিন উপাসক এই রঙের বস্ত্র পরিধান করলে তা মনকে সংযত রাখতে এবং আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে একাত্ম হতে সাহায্য করে।
কেন এই আরাধনা সমসাময়িক জীবনে প্রাসঙ্গিক?
আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের মাঝে মা চন্দ্রঘণ্টার পুজো কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি মানসিক শুদ্ধির এক শক্তিশালী প্রক্রিয়া। তিনি আমাদের শেখান কীভাবে বাহ্যিক জগতের বিশৃঙ্খলা ও নেতিবাচকতাকে জয় করে নিজের ভেতরে থাকা শক্তিকে জাগ্রত করতে হয়। মায়ের কৃপায় বিনয়ী স্বভাব বজায় রেখেই অশুভ বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহস গড়ে ওঠে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













