সুদীপ্ত সাউ, কলকাতা: শারদীয় ও চৈত্র নবরাত্রির পুণ্যলগ্নে শক্তির আরাধনায় মেতে ওঠে সমগ্র দেশ। নয়টি পবিত্র দিনের এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং নিজের ভেতরের ইতিবাচক শক্তিকে জাগ্রত করার এক আধ্যাত্মিক যাত্রা। নবরাত্রির সূচনালগ্নে অর্থাৎ প্রথম দিনে পূজিত হন দেবী দুর্গার প্রথম রূপ—দেবী শৈলপুত্রী (Navratri 2026 Day 1 Devi)। ২০২৬ সালের নবরাত্রির প্রথম দিনে কীভাবে করবেন এই দেবীর আরাধনা এবং কী এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য, জেনে নিন বিস্তারিত।
কে এই দেবী শৈলপুত্রী?
সংস্কৃত শব্দ ‘শৈল’ কথার অর্থ পর্বত বা হিমালয় এবং ‘পুত্রী’ অর্থাৎ কন্যা। পর্বতরাজ হিমালয়ের ঘরে জন্ম নেওয়ার কারণেই দেবীর এই নামকরণ। পূর্বজন্মে তিনি ছিলেন দক্ষ প্রজাপতির কন্যা সতী। পরবর্তী জন্মে তিনি পার্বতী বা হৈমবতী রূপে আবির্ভূত হয়ে মহাদেব শিবকে পুনরায় পতিরূপে বরণ করেন।
প্রতিমা বা ছবিতে দেবী শৈলপুত্রীর রূপ অত্যন্ত সৌম্য ও মহিমান্বিত:
- দেবীর বাহন হলো বৃষভ (ষাঁড়), তাই তাঁকে ‘বৃষারূঢ়া’ও বলা হয়।
- তাঁর দুই হাত—ডান হাতে শোভা পায় ত্রিশূল এবং বাঁ হাতে থাকে প্রস্ফুটিত পদ্মফুল।
- তাঁর কপালে অর্ধচন্দ্র শোভিত থাকে, যা শান্তি ও স্থিরতার প্রতীক।
নবরাত্রির প্রথম দিনে ঘটস্থাপন ও পুজো বিধি
নবরাত্রির প্রথম দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার হলো ঘটস্থাপন বা কলশ স্থাপন। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে শুদ্ধ চিত্তে এই কাজ সম্পন্ন করলে গৃহস্থের জীবনে সমৃদ্ধি আসে।
- প্রাতঃকালীন প্রস্তুতি: সূর্যোদয়ের পূর্বে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বা নতুন বস্ত্র পরিধান করুন। দেবীর প্রিয় রং সাদা ও লাল, তাই এই রঙের পোশাকে পুজোয় বসা শুভ বলে মনে করা হয়।
- ঘটস্থাপন: উত্তর-পূর্ব (ঈশান) কোণে কাঠের বেদির ওপর লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে মাটির পাত্রে সপ্তধান্য বা গম রাখুন। তার ওপর তামার বা মাটির ঘট স্থাপন করে তাতে গঙ্গাজল, সুপারি, মুদ্রা ও পঞ্চপল্লব (আমপাতা) দিন। ঘটের ওপর একটি নারকেল লাল কাপড়ে মুড়িয়ে স্থাপন করতে হবে।
- অখণ্ড জ্যোতি ও সংকল্প: পুজোর শুরুতে অখণ্ড প্রদীপ প্রজ্বলন করুন এবং নয় দিন নিষ্ঠার সঙ্গে উপবাস ও আরাধনার সংকল্প গ্রহণ করুন।
- ভোগ নিবেদন: নবরাত্রির প্রথম দিনে দেবী শৈলপুত্রীকে খাঁটি গাওয়া ঘি এবং গরুর দুধ দিয়ে তৈরি মিষ্টান্ন নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ। এতে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে বলে বিশ্বাস।
দেবী শৈলপুত্রীর ধ্যান মন্ত্র
পুজোর সময় একাগ্রচিত্তে এই মন্ত্রটি জপ করলে মানসিক স্থিরতা লাভ হয়:
“বন্দে বাঞ্ছিতলাভায় চন্দ্রার্ধকৃতশেখরাম্। বৃষারূঢ়াং শূলধরাং শৈলপুত্রীং যশস্বিনীম্॥”
এছাড়াও সাধারণ ভক্তরা সহজে জপ করতে পারেন বীজমন্ত্র:
“ওঁ দেবী শৈলপুত্র্যৈ নমঃ”
যোগ ও চক্র সাধনায় প্রথম দিনের গুরুত্ব
যোগী এবং আধ্যাত্মিক সাধকদের কাছে Navratri 2026 Day 1 Devi আরাধনা অত্যন্ত বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মানবদেহের সুপ্ত শক্তি কুণ্ডলিনী জাগ্রত করার প্রথম ধাপ হলো মূলাধার চক্র।
দেবী শৈলপুত্রী মূলাধার চক্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এই চক্রটি আমাদের স্থায়িত্ব, আত্মবিশ্বাস ও ভিত্তির প্রতীক। প্রথম দিনে দেবীর আরাধনা করলে ভয়, মানসিক দ্বিধা ও অস্থিরতা দূর হয় এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃঢ়তা ফিরে আসে।
প্রথম দিনের শুভ প্রভাব ও ফললাভ
দেবী শৈলপুত্রী প্রকৃতির প্রতীক। তিনি ধৈর্য ও ত্যাগের মূর্ত রূপ। নিষ্ঠার সাথে তাঁর উপাসনা করলে সাধকের মন পবিত্র হয় এবং জীবনের সমস্ত নেতিবাচক চিন্তা বিদায় নেয়। পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং ভাগ্যোদয়ের পথ সুগম হয়।
শক্তি আরাধনার এই প্রথম লগ্নে প্রকৃতি ও মাতৃরূপী মহাশক্তিকে নিজের অন্তরে ধারণ করাই নবরাত্রির আসল উদ্দেশ্য। সঠিক ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে শুরু হোক আপনার ২০২৬-এর নবরাত্রি যাত্রা।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













