Navratri 2026 Day 5 Devi: শারদীয় নবরাত্রির পঞ্চম দিনটি ভক্তদের জীবনে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক মুহূর্ত নিয়ে আসে। শক্তির নয়টি রূপের মধ্যে এই দিনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন মা স্কন্দমাতা। নবরাত্রির পঞ্চম দিনে দেবীর এই বাৎসল্যময় রূপের আরাধনা করলে পরিবারে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। ২০২৬ সালের নবরাত্রির পঞ্চম দিনে দেবীর কৃপা পেতে কীভাবে পূজা করবেন, কোন শুভ রঙ পরবেন এবং কী মন্ত্র উচ্চারণ করবেন—জেনে নিন এক নজরে।
কে এই দেবী স্কন্দমাতা (Skandamata)?
ভগবান কার্তিকেয়—যাঁর অপর নাম স্কন্দ—তাঁর জননী রূপেই মা স্কন্দমাতা পূজিত হন। দেবীর বাহন সিংহ এবং তিনি চতুর্ভুজা। তাঁর ওপরের দুই হাতে পদ্মফুল শোভা পায়, এক হাতে শিশু স্কন্দকে ধারণ করে থাকেন এবং অপর হাতটি থাকে বরদান বা অভয় মুদ্রায়। দেবী পদ্মের ওপর উপবিষ্ট থাকেন বলে তাঁকে ‘পদ্মাসনা’ দেবীও বলা হয়। মায়ের এই রূপটি অত্যন্ত শান্ত, করুণাময় এবং মমতাময়ী। সন্তানকে কোলে নিয়ে মাতৃশক্তির যে স্নেহময় প্রকাশ, স্কন্দমাতা তারই পরম প্রতীক।
নবরাত্রির পঞ্চম দিনের গুরুত্ব ও বিশুদ্ব চক্রের জাগরণ
যোগী ও সাধকদের মতে, নবরাত্রির পঞ্চম দিনে সাধকের মন শরীরের ‘বিশুধ্ব চক্রে’ (কণ্ঠদেশে অবস্থিত চক্র) অবস্থান করে। এই চক্র বিশুদ্ধতা ও সত্যের পরিচায়ক। স্কন্দমাতার ধ্যানে মগ্ন হলে মন জাগতিক মোহ থেকে মুক্ত হয়ে পরম চেতনার দিকে ধাবিত হয়। যাঁদের কর্মজীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বা স্পষ্ট যোগাযোগের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য মা স্কন্দমাতার আরাধনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়।
মা স্কন্দমাতার পূজাবিধি
নবরাত্রির পঞ্চম দিনে ভক্তরা নিষ্ঠার সাথে মা স্কন্দমাতার পূজা সম্পন্ন করেন। নিয়মগুলি অত্যন্ত সহজ ও ভক্তিপূর্ণ:
- প্রাতঃকালীন প্রস্তুতি: ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন।
- পূজাস্থল প্রস্তুত: বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে বা ঠাকুরঘরে দেবী দুর্গার ঘট বা প্রতিমার সামনে ঘি বা তিলের তেলের প্রদীপ প্রজ্বলন করুন।
- পবিত্র নৈবেদ্য: মা স্কন্দমাতার সবচেয়ে প্রিয় ভোগ হলো কলা। পূজা নিবেদনের সময় পাকা কলা বা কলা দিয়ে তৈরি কোনো মিষ্টান্ন নিবেদন করুন। এর পাশাপাশি পঞ্চামৃত ও সাদা ক্ষীর নিবেদন অত্যন্ত শুভ।
- পুষ্পাঞ্জলি: দেবীর চরণে লাল বা হলুদ জবা, পদ্ম বা গাঁদা ফুল অর্পণ করুন।
- ধূপ ও আরতি: কর্পূর ও ধূপ জ্বালিয়ে মায়ের পঞ্চোপচার পূজা শেষ করে আরতি করুন।
নবরাত্রির পঞ্চম দিনের শুভ রঙ ও ভোগ
নবরাত্রির প্রতিটি দিনের সাথে নির্দিষ্ট রঙের একটি গভীর তাৎপর্য রয়েছে।
- শুভ রঙ (সাদা / ধূসর বা হলুদ রূপভেদ): পঞ্চমী তিথিতে শুদ্ধতা, পবিত্রতা এবং অন্তরের শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা বা হালকা হলুদ রঙের পোশাক পরা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। এটি মনের চঞ্চলতা দূর করে ভক্তিভাব বৃদ্ধি করে।
- বিশেষ ভোগ: দেবীকে পাকা কলার ভোগ নিবেদন করলে শারীরিক সুস্থতা এবং জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রসাদটি পূজার পর সকলের মাঝে বিতরণ করুন।
মা স্কন্দমাতার ধ্যান ও বীজমন্ত্র
পূজার সময় শান্ত মনে এই মন্ত্রটি জপ করলে গৃহের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং সন্তানসুখ লাভ সহজ হয়:
বীজমন্ত্র: ॐ দেবী স্কন্দমাতায়ৈ নমঃ (Om Devi Skandamatayai Namah)
ধ্যান মন্ত্র: সিংহাসনগতা নিত্যং পদ্মাশ্রিতকরদ্বয়া। শুভদাস্তু সদা দেবী স্কন্দমাতা যশস্বিনী॥
অন্তত ১০৮ বার এই মন্ত্র জপ করলে দেবীর বিশেষ আশীর্বাদ পাওয়া যায়।
মা স্কন্দমাতার পূজার ফল ও আশীর্বাদ
যেসব দম্পতি সন্তানের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছেন, তাঁদের জন্য মা স্কন্দমাতার পূজা এক অব্যর্থ আশীর্বাদ। শাস্ত্রমতে, মায়ের পূজা করলে পরোক্ষভাবে তাঁর কোলে থাকা কার্তিকেয় বা স্কন্দের পূজাও সম্পন্ন হয়ে যায়। এর ফলে ভক্ত একই সঙ্গে জ্ঞান, সাহস ও বাৎসল্য শক্তির অধিকারী হন। জীবনে আসা মানসিক দ্বিধা কাটিয়ে সঠিক পথে এগিয়ে চলার সাহস জোগান এই দেবী।
নবরাত্রির এই পবিত্র পঞ্চমী তিথিতে ভক্তিভরে মা স্কন্দমাতার শরণাপন্ন হয়ে আপনার ঘর ও জীবনকে ইতিবাচক শক্তিতে পূর্ণ করে তুলুন।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













