Karwa Chauth Vrat Katha: কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতে উদযাপিত করবা চৌথ হিন্দু বিবাহিত নারীদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আধ্যাত্মিক ব্রত। স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, পারিবারিক সমৃদ্ধি এবং দাম্পত্য জীবনে চিরস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতেই নারীরা এই দিনে নির্জলা উপবাস পালন করেন। আপনি যদি চলতি বছরে এই ব্রত পালনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তবে এর নেপথ্যের প্রাচীন আখ্যান বা ব্রত কথা জেনে নেওয়া একান্ত আবশ্যক। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।
করবা চৌথ ব্রত কথা (Karwa Chauth Vrat Katha in Bengali)
পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, বীরবতী নামের এক সুন্দরী ও ধর্মপরায়ণ রাজকুমারী ছিলেন তাঁর সাত ভাইয়ের একমাত্র আদরের বোন। বিয়ের পর প্রথম করবা চৌথে বীরবতী বাপের বাড়িতে এসেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এক ফোঁটা জল স্পর্শ না করে নির্জলা উপবাস শুরু করেন।
সন্ধ্যার দিকে তীব্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় বীরবতী দুর্বল হয়ে মূর্ছা যান। বোনের এই কষ্ট দেখে সাত ভাই ব্যথিত হয়ে ওঠেন। তাঁকে জল ও খাবার খাওয়ানোর জন্য ভাইয়েরা একটি ফন্দি আঁটেন। দূরের একটি বিশাল অশ্বত্থ গাছের ডালে প্রদীপ জ্বালিয়ে চালুনির আড়ালে তা এমনভাবে স্থাপন করা হয়, যা দেখতে হুবহু চাঁদের আলোর মতো লাগছিল। ভাইয়েরা এসে বোনকে বলেন, “আকাশে চাঁদ উঠেছে, এবার পুজো সম্পন্ন করে জল পান কর।”
সরল বিশ্বাসে বীরবতী সেই কৃত্রিম আলো দেখে অর্ঘ্য দেন এবং ভাইদের দেওয়া খাবার মুখে তোলেন। কিন্তু প্রথম গ্রাস মুখে নিতেই তিনি মাথার চুল আটকে যাওয়ার ইঙ্গিত পান, দ্বিতীয় গ্রাসে হাঁচি হয় এবং তৃতীয় গ্রাস মুখে দিতেই খবর আসে—তাঁর স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন।
বীরবতীর কান্নায় দেবী পার্বতী সেখানে আবির্ভূত হন এবং জানান, অসাবধানতাবশত চাঁদ দেখার আগেই নিয়ম ভেঙে ব্রত ভঙ্গ করায় এই বিপর্যয় ঘটেছে। বীরবতী অনুতপ্ত হয়ে দেবীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। দেবী পার্বতী তাঁকে সারা বছর প্রতি মাসের চতুর্থী তিথিতে নিষ্ঠাভরে উপবাস রাখার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী কারবা চৌথে পূর্ণ নিষ্ঠায় ব্রত পালনের বিধান দেন।
বীরবতী দেবীর আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। তাঁর একাগ্রতা ও ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে যমরাজ তাঁর স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে দেন এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখ ও দীর্ঘায়ু লাভ করে। সেই থেকে হিন্দু ধর্মে সৌভাগ্য ও স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় এই ব্রত কথার পাঠ বাধ্যতামূলক বলে গণ্য হয়।
ব্রতের প্রস্তুতি ও সারগি গ্রহণের নিয়ম
করবা চৌথ পালনের শুরু হয় ভোরের বিশেষ মুহূর্ত থেকে:
- সারগি গ্রহণ: সূর্যোদয়ের পূর্বে শাশুড়ির আশীর্বাদস্বরূপ পাওয়া ফল, মিষ্টি, মেওয়া এবং হালকা খাবার গ্রহণ করে উপবাস শুরু হয়।
- সংকল্প ও প্রস্তুতি: স্নান সেরে লাল বা মেরুন রঙের নতুন পোশাক পরিধান করে সারা দিন নির্জলা থাকার সংকল্প গ্রহণ করা হয়।
- শোল শৃঙ্গার: হাতে মেহেন্দি, সিঁদুর, কাচের চুড়ি ও অন্যান্য অলংকার ধারণ করে নারীরা দেবীর আরাধনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন।
করবা চৌথ পুজোর সহজ পদ্ধতি ও চাঁদের অর্ঘ্য
বিকেলের দিকে শিব-পার্বতী, কার্তিক এবং গণেশের পুজো করা হয়। করবা অর্থাৎ মাটির বিশেষ পাত্রে জল ভরে রাখা হয়।
- পুজোমণ্ডপে বসে নারীরা গোল হয়ে বসেন এবং করবা চৌথ ব্রত কথা শ্রবণ করেন।
- একে অপরের সাথে মাটির করবা বা পাত্র বিনিময় করে সৌভাগ্য কামনা করা হয়।
- রাতে আকাশে চাঁদ ওঠার পর চালুনির ওপর প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রথমে চাঁদের মুখ দেখা হয়।
- এরপর সেই চালুনির মধ্য দিয়েই স্বামীর মুখ দেখে তাঁর চরণ স্পর্শ করে আশীর্বাদ নেওয়া হয়।
- অবশেষে স্বামীর হাত থেকে জল ও মিষ্টি গ্রহণ করে ব্রতী নারী দিনের নির্জলা উপবাস সমাপ্ত করেন।
এই ব্রতের মূল শক্তি হলো স্ত্রীর একাগ্র বিশ্বাস ও আত্মত্যাগ। করবা চৌথ কেবল একটি ধর্মীয় প্রথা নয়, এটি দুটি হৃদয়ের অটুট বন্ধন ও আজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার। সঠিক নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সাথে এই ব্রত পালন করলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও চিরন্তন শান্তি বিরাজ করে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













