আজ বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের বিনায়ক চতুর্থী, যা হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও ফলদায়ক একটি ব্রত। এই দিনে ভগবান গণেশের আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়, কর্মক্ষেত্রে সাফল্য আসে এবং দুঃখ‑কষ্ট লাঘব হয়। শাস্ত্র মতে, Vinayak Chaturthi Vrat Katha পাঠ বা শ্রবণ না করলে এই ব্রত সম্পূর্ণ হয় না। তাই পূজার সময় এই কাহিনী পাঠ করা অত্যন্ত শুভ।
Vinayak Chaturthi Vrat‑এর মাহাত্ম্য
বিনায়ক চতুর্থী ব্রত ভগবান গণেশের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। গণেশকে বলা হয় বিঘ্ননাশক ও সিদ্ধিদাতা। এই ব্রত নিষ্ঠাভরে পালন করলে সংসার, চাকরি, ব্যবসা ও শিক্ষাজীবনের নানা সমস্যা দূর হয়। বিশেষত বৈশাখ মাসের শুক্ল চতুর্থীর মাহাত্ম্য শ্রীমুদ্গল পুরাণে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
Vinayak Chaturthi Vrat Katha: শঙ্কর্ষ বিনায়ক চতুর্থীর ব্রতকথা
একদা রাজা দশরথ মহর্ষি বশিষ্ঠকে জিজ্ঞেস করলেন,
“হে গুরুদেব, বৈশাখ শুক্ল চতুর্থীর উপবাসের গুরুত্ব কী? এই ব্রত পালনের ফল কী?”
মহর্ষি বশিষ্ঠ তখন একটি প্রাচীন কাহিনী বর্ণনা করলেন।
তিনি বললেন, প্রাচীনকালে গুজরাটে ভদ্রক নামে এক সমৃদ্ধ নগর ছিল। সেই নগরের রাজা ছিলেন ব্রহ্মপ্রিয়—একজন ধর্মপরায়ণ, দানশীল ও যজ্ঞপ্রিয় শাসক। তিনি ব্রাহ্মণ ও অতিথিদের যথাযথ সম্মান দিতেন এবং ধর্মের পথে রাজ্য শাসন করতেন।
কিন্তু রাজা ব্রহ্মপ্রিয়ের জীবনে এক ভয়ংকর দুঃখ নেমে আসে। তাঁর একের পর এক পাঁচজন স্ত্রী অকাল মৃত্যুবরণ করেন। এই শোক রাজাকে ভেঙে দেয়। মানসিক যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তিনি রাজত্ব ত্যাগ করে বনে নিজের গুরু শ্বেতকেতুর আশ্রমে আশ্রয় নেন।
গুরু শ্বেতকেতুর উপদেশ
রাজা তাঁর সমস্ত দুঃখের কথা গুরু শ্বেতকেতুকে জানালে, গুরু ধ্যানে বসে বললেন,
“হে মহারাজ, তোমার রাজ্যে Vinayak Chaturthi Vrat পালন করা হয় না। যে রাজ্যে চতুর্থী ব্রত অবহেলিত হয়, সেখানে পুণ্যকর্মের ফল নষ্ট হয় এবং দুর্ভোগ দেখা দেয়।”
নিজের ভুল বুঝতে পেরে রাজা জিজ্ঞেস করলেন,
“হে গুরুদেব, এই ব্রত কীভাবে পালন করতে হয় এবং কাকে পূজা করতে হয়?”
শ্বেতকেতু জানালেন, এই ব্রত সর্ববিঘ্ননাশক ভগবান গণেশের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। তাঁর কৃপায় চিত্ত শান্ত হয়, সুখ‑সমৃদ্ধি লাভ হয় এবং শেষ পর্যন্ত মোক্ষ প্রাপ্তি সম্ভব হয়।
গণেশ মন্ত্র ও ব্রত পালন
গুরু শ্বেতকেতু রাজাকে ভগবান গণেশের পবিত্র মন্ত্র প্রদান করেন। রাজা ব্রহ্মপ্রিয় আশ্রম থেকে রাজ্যে ফিরে এসে ঘোষণা করেন—প্রতি মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে গণেশ ব্রত পালন করা হবে।
তিনি নিজেও ভক্তিভরে উপবাস পালন করেন, গণেশ পূজা করেন এবং Vinayak Chaturthi Vrat Katha পাঠ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর জীবনের দুঃখ দূর হয়, রাজ্যে শান্তি ফিরে আসে। তিনি এক আদর্শ রাজা হিসেবে রাজ্য শাসন করেন এবং শেষ পর্যন্ত ভগবান গণেশের কৃপায় মোক্ষ লাভ করেন।
পাপী ব্রাহ্মণের কাহিনী
মহর্ষি বশিষ্ঠ আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করেন। মহারাষ্ট্রে এক ব্রাহ্মণ বাস করতেন, যিনি অত্যন্ত পাপাচারী ছিলেন—মদ্যপান, চুরি ও নানা কুকর্মে লিপ্ত থাকতেন।
একদিন এক নারীর সঙ্গে অসদাচরণ করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন এবং গুরুতর আহত হন। ঘটনাটি ঘটে চতুর্থী তিথিতে। আঘাতের কারণে তিনি সারাদিন কিছু খেতে পারেননি। পরদিন সেই ব্রাহ্মণের মৃত্যু হয়।
আশ্চর্যের বিষয়, অজান্তেই চতুর্থীর উপবাস পালিত হওয়ার কারণে তিনি সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে মোক্ষ লাভ করেন।
Vinayak Chaturthi Vrat Katha পাঠের ফল
যিনি নিষ্ঠাভরে Vinayak Chaturthi Vrat Katha পাঠ বা শ্রবণ করেন, তাঁর সমস্ত মনোকামনা পূর্ণ হয়। এই ব্রত দুঃখ নাশ করে, সৌভাগ্য বৃদ্ধি করে এবং জীবনে শান্তি ও সাফল্য এনে দেয়।
এইভাবেই শ্রীমুদ্গল পুরাণে বর্ণিত বৈশাখ শুক্ল চতুর্থীর পবিত্র মাহাত্ম্য সম্পূর্ণ হয়।
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













