New Cheque Book Rules: ব্যাংকিং লেনদেনের নিরাপত্তা ও নিয়মাবলী নিয়ে প্রতিনিয়ত নানা তথ্য সামনে আসে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা ঝড় তুলেছে – ১লা জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নাকি বর্তমান চেক বই বাতিল হতে চলেছে এবং নতুন নিরাপত্তা মানদণ্ডের চেক বই গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হবে! স্বভাবতই সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে: New Cheque Book Rules from 1st January 2027 নিয়ে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক? পুরোনো চেক বই কি সত্যিই অকেজো হয়ে পড়বে, নাকি এটি কেবলই বিভ্রান্তিকর গুজব?
চলুন, একজন সচেতন গ্রাহক হিসেবে এই বিষয়ে বিস্তারিত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
১লা জানুয়ারি ২০২৭ থেকে চেক বই কি বাতিল হচ্ছে?
সরাসরি ও স্পষ্ট উত্তর হলো: না, বর্তমান চেক বই বাতিল হচ্ছে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর বর্তমান সব চেক বই অচল হয়ে যাবে এবং নতুন বছরের শুরুতেই নতুন চেক বই সংগ্রহ করতে হবে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে চেক বই পরিবর্তনের এমন কোনো নিয়ম চালু করা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত CTS (Cheque Truncation System) অনুমোদিত চেক বই আগের মতোই সম্পূর্ণ বৈধ ও কার্যকর থাকবে।
গুজবের উৎস ও উদ্বেগের কারণ
সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে ছড়িয়ে পড়েছিল যে জালিয়াতি রুখতে চেকে নতুন সিকিউরিটি ফিচার যুক্ত করে ২০২৭ সাল থেকে নতুন ফরম্যাট চালু করা হচ্ছে। এমন মেসেজ দেখে বহু গ্রাহক তড়িঘড়ি ব্যাংকে গিয়ে নতুন চেকের আবেদন করার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। সাধারণ মানুষের উচিত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়া।
চেকের সুরক্ষায় যেসব বিদ্যমান নিয়ম মানা জরুরি
নতুন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম না এলেও ব্যাংকিং লেনদেন নিরাপদ রাখতে কিছু জরুরি নিয়ম প্রতিটি গ্রাহককে সবসময় মনে রাখতে হবে:
১. CTS-2010 স্ট্যান্ডার্ড
বর্তমানে ব্যাংকগুলো যে চেক ইস্যু করে, তা CTS-2010 স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি। এতে থাকে:
- স্পষ্ট ওয়াটারমার্ক ও ব্যাংকের নিজস্ব লোগো।
- অতিবেগুনি রশ্মিতে দৃশ্যমান বিশেষ কালি।
- চেক ক্লিয়ারিংয়ের গতি বাড়াতে নির্দিষ্ট মাপের ফ্রন্ট ও ব্যাক ডিজাইন। আপনার চেক বইতে যদি ‘CTS-2010’ লেখা থাকে, তবে ২০২৭ কিংবা তার পরেও তা পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই।
২. পজিটিভ পে সিস্টেম (Positive Pay System – PPS)
চেক জালিয়াতি রুখতে ইতিমধ্যে চালু রয়েছে পজিটিভ পে সিস্টেম।
- ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের চেক ইস্যু করার সময় গ্রাহক চাইলে অথবা ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী ইস্যুকৃত চেকের বিবরণ (তারিখ, প্রাপকের নাম, পরিমাণ, অ্যাকাউন্ট নম্বর ইত্যাদি) ব্যাংককে আগে থেকে জানাতে হয়।
- ৫ লক্ষ টাকার বেশি অঙ্কের চেকের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ব্যাংক এই ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করেছে। ২০২৭ সালেও এই নিরাপত্তা নীতি সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে।
৩. ওভাররাইটিং বা কাটাকাটি বর্জন
চেকে কোনো কাটাকাটি বা ওভাররাইটিং থাকলে স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং মেশিনে তা বাতিল হতে পারে। তাই প্রাপকের নাম, টাকার পরিমাণ বা স্বাক্ষরে কোনো ভুল হলে পুরোনো চেকে কাটাকাটি না করে নতুন চেক পাতা ব্যবহার করা উচিত।
চেকের সঠিক ব্যবহার: গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ
- অ্যাকাউন্ট পেয়ী দাগ দিন: সরাসরি কারও অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে চাইলে চেকের বাম দিকের উপরের কোণে দুটি সমান্তরাল দাগ টেনে ‘A/C Payee’ লিখে দিন।
- খালি চেক স্বাক্ষর করবেন না: কখনোই স্বাক্ষরিত খালি চেক নিজের কাছে বা অন্য কারও কাছে রাখবেন না।
- মোবাইল ও ইমেইল আপডেট রাখুন: ব্যাংকে আপনার সচল মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকলে চেক ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন পাওয়া সহজ হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার চটকদার খবরের পেছনে না ছুটে নির্ভরযোগ্য আর্থিক সংবাদ মাধ্যমে নজর রাখা প্রয়োজন। আপনার বর্তমান CTS চেক বই পুরোপুরি নিরাপদ এবং ১লা জানুয়ারি ২০২৭-এর পরও নির্দ্বিধায় ব্যবহারযোগ্য থাকবে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













