সনাতন ধর্মে সবকটি একাদশীর মধ্যে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের এই তিথিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পবিত্র ব্রতটি Putrada Ekadashi 2026 Vrat নামে পরিচিত, যা সন্তান প্রাপ্তি, সন্তানের দীর্ঘায়ু এবং পারিবারিক সুখ-শান্তি নিশ্চিত করতে এক অমোঘ কবচ হিসেবে কাজ করে। আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে সন্তান সুখ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন বা সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন, তবে ২০২৬ সালের এই বিশেষ একাদশী ব্রত আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একজন অভিজ্ঞ কনটেন্ট রাইটার হিসেবে এই প্রতিবেদনে আমি অত্যন্ত সহজ ভাষায় এই ব্রতের নিখুঁত সময়সূচী এবং সম্পূর্ণ পুজো পদ্ধতি তুলে ধরলাম, যা আপনাদের আধ্যাত্মিক যাত্রাকে আরও ফলপ্রসূ করবে।
পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী পালিত হবে ২৩ আগস্ট, রবিবার। উদয়া তিথি মেনে এই দিনই সাধারণ গৃহস্থ ও ভক্তরা উপবাস রাখবেন। তবে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ভক্তরা এই ব্রত পালন করবেন ২৪ আগস্ট।
- একাদশী তিথি শুরু: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে রাত ২:০০ মিনিটে।
- একাদশী তিথি সমাপ্ত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ভোর ৪:১৮ মিনিটে।
- ব্রত পারণের শুভ সময় (সাধারণ): ২৪ আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪১ মিনিট থেকে বিকেল ৪:১৬ মিনিটের মধ্যে।
- বৈষ্ণব পারণের সময়: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৫:৫৫ মিনিট থেকে সকাল ৬:২০ মিনিট পর্যন্ত।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই একাদশী ব্রত স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু এবং দেবী লক্ষ্মীর চরণে সমর্পিত। পদ্মপুরাণে বর্ণিত রয়েছে যে, নিঃসন্তান দম্পতিরা যদি পরম ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করেন, তবে শ্রীহরির কৃপায় তারা সুসন্তান লাভ করেন। শুধু তাই নয়, সন্তানের জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি কেটে যায় এবং পরিবারে ধন-ধান্যের আগমন ঘটে। যারা মোক্ষ লাভ করতে চান, তাদের জন্যও এই ব্রত অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।
আপনার ব্রত যেন সম্পূর্ণ শুদ্ধ এবং ত্রুটিহীন হয়, তার জন্য নিচের ধাপগুলি মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করুন:
- সঙ্কল্প ও স্নান: একাদশীর দিন ব্রাহ্মমুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বা হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করুন। এরপর ভগবান বিষ্ণুর সামনে হাত জোড় করে ব্রতের সঙ্কল্প নিন।
- ঘট স্থাপন ও অভিষেক: পুজোর স্থানে একটি জলচৌকি পেতে তাতে শ্রীহরি বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন। গঙ্গাজল ছিটিয়ে চারপাশ পবিত্র করে নিন।
- পুজো সামগ্রী অর্পণ: ভগবানকে হলুদ ফুল, চন্দন, ধূপ, দীপ এবং মরশুমী ফল নিবেদন করুন। মনে রাখবেন, শ্রীহরির পুজোয় তুলসী পাতা অর্পণ করা আবশ্যিক, তুলসী ছাড়া একাদশীর পুজো অসম্পূর্ণ থাকে।
- মন্ত্র জপ ও আরতি: পুজো করার সময় চোখ বন্ধ করে অন্তত ১০৮ বার “ॐ नमो भगवते वासुदेवाय” (Om Namo Bhagavate Vasudevaya) মন্ত্রটি জপ করুন। এরপর কর্পূর বা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বেলে আরতি সম্পন্ন করুন।
- ব্রত কথা শ্রবণ: পুজোর শেষে পুত্রদা একাদশীর মাহাত্ম্য বা ব্রত কথা অবশ্যই পাঠ করুন বা শুনুন, এতে ব্রতের পূর্ণ ফল পাওয়া যায়।
একাদশী ব্রত সফল করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
- চাল বর্জন: একাদশীর দিন ভুলেও চাল বা চালের তৈরি কোনো খাবার (যেমন ভাত, মুড়ি, পোলাও) স্পর্শ বা গ্রহণ করবেন না।
- সাত্ত্বিক আহার: যারা সম্পূর্ণ নির্জলা উপবাস করতে পারবেন না, তারা ফল, দুধ বা সাবুদানার মতো ফলহার গ্রহণ করতে পারেন।
- মানসিক শুদ্ধতা: এই দিন পরনিন্দা, রাগ, বা মিথ্যা কথা বলা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। মনে কেবল ঈশ্বরের নাম স্মরণ করুন।
- দান-ধ্যান: দ্বাদশী তিথিতে ব্রত ভাঙার আগে কোনো দরিদ্র বা ব্রাহ্মণকে অন্ন, বস্ত্র বা সামর্থ্য অনুযায়ী দান করুন। এতে পুণ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
আজই আপনার ক্যালেন্ডারে ২৩ আগস্ট তারিখটি চিহ্নিত করে রাখুন এবং সম্পূর্ণ ভক্তিভরে এই পুণ্য তিথির প্রস্তুতি শুরু করুন। শ্রীহরি বিষ্ণুর আশীর্বাদে আপনার ঘর আলো করে আসুক সুযোগ্য সন্তান এবং পরিবার ভরে উঠুক অনাবিল সুখে। ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়!
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













