Ekadashi in September 2026: ভাদ্রের দুই মহাপবিত্র তিথিতে শ্রীহরির কৃপা পাওয়ার সহজ উপায়

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Rate this post

Ekadashi in September 2026: সনাতন ধর্মে একাদশী ব্রতের গুরুত্ব অপরিসীম। ভগবান শ্রীহরির চরণে নিজেকে সমর্পণ করার এবং অন্তরাত্মাকে শুদ্ধ করার এক পবিত্র দিন এটি। প্রতি মাসে দুটি করে একাদশী তিথি আসে—একটি শুক্লপক্ষে এবং অন্যটি কৃষ্ণপক্ষে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই মাসে ভক্তদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত প্রভাবশালী দুটি একাদশী: অজা একাদশী এবং পরিবর্তিনী একাদশী

আপনি যদি এই পবিত্র তিথির জন্য সঠিক প্রস্তুতি নিতে চান, তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার, নিয়ম এবং পারণের সময়সূচি এক নজরে জেনে নিন।

Ekadashi in September 2026: সেপ্টেম্বর ২০২৬ একাদশী নির্ঘণ্ট ও শুভ মুহূর্ত

সেপ্টেম্বর মাসে দুটি একাদশী পালিত হবে। শাস্ত্রীয় পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী তিথির বিস্তারিত সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

একাদশীর নামপক্ষতিথির দিন ও তারিখপারণের সময় (Parana Time)
অজা একাদশী (Aja Ekadashi)ভাদ্রপদ কৃষ্ণপক্ষ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (সোমবার)৮ সেপ্টেম্বর: সকাল ০৬:০৫ থেকে ০৮:৩০ পর্যন্ত
পরিবর্তিনী একাদশী (Parsva / Parivartini Ekadashi)ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (সোমবার)২২ সেপ্টেম্বর: সকাল ০৬:১০ থেকে ০৮:৩৫ পর্যন্ত

(স্থানীয় সূর্যোদয়ের সময় অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে পারণের সামান্য সময়ের হেরফের হতে পারে।)

১. অজা একাদশী (৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬): পাপ মোচনের শ্রেষ্ঠ দিন

ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে ‘অজা একাদশী’ বলা হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ব্রত পালন করলে পূর্বজন্ম ও ইহজন্মের সমস্ত জ্ঞাত-অজ্ঞাত পাপ ধুয়ে মুছে যায়।

  • পৌরাণিক মাহাত্ম্য: প্রাচীনকালে সত্যবাদী রাজা হরিশচন্দ্র তাঁর সমস্ত রাজ্য হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে মহর্ষি গৌতমের পরামর্শে তিনি নিষ্ঠাভরে এই অজা একাদশী পালন করেন এবং নিজের হারানো রাজ্য, পরিবার ও সম্মান ফিরে পান।
  • পূজার সংকল্প: এই দিন ভগবান বিষ্ণুর পাশাপাশি দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা অত্যন্ত শুভ ফলদায়ী। তুলসী পাতা ও পঞ্চামৃত দিয়ে হরিনাম সংকীর্তন করলে জীবনের সংকট কেটে যায়।

২. পরিবর্তিনী একাদশী (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬): শ্রীহরির শয়ন পার্শ্ব পরিবর্তন

ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের এই একাদশী ‘পার্শ্ব একাদশী’ বা ‘পরিবর্তিনী একাদশী’ নামে পরিচিত। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, চাতুর্মাস চলাকালীন ক্ষীরসাগরে যোগনিদ্রায় মগ্ন ভগবান বিষ্ণু এই পবিত্র তিথিতে পাশ ফিরে শয়ন করেন।

  • আধ্যাত্মিক তাৎপর্য: এই তিথিতে শ্রীবিষ্ণুর বামন রূপের বিশেষ আরাধনা করা হয়। কথিত আছে, পরিবর্তিনী একাদশীর ব্রতকথা শ্রবণ বা পাঠ করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য লাভ হয়।
  • বিশেষ ফল: আর্থিক অনটন দূর করতে এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে ভক্তরা এই দিন নির্জলা কিংবা ফলাহার উপবাস পালন করেন।

একাদশী পালনের সঠিক নিয়মাবলী

সঠিক বিধি না মানলে একাদশীর পূর্ণ ফল লাভ সম্ভব নয়। তাই ব্রত পালনের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি মেনে চলুন:

  • দশমী থেকেই সংযম: একাদশীর আগের দিন অর্থাৎ দশমীর সূর্যাস্তের পর কোনো ভারী বা তামসিক আহার গ্রহণ করবেন না।
  • বর্জনীয় খাদ্য: একাদশীর দিন চাল, ডাল, গম, বার্লি ও সরিষার তেল সম্পূর্ণ বর্জনীয়। শুধুমাত্র ফল, দুধ, সাবুদানা বা জল গ্রহণ করা যায়।
  • তুলসী চয়ন নিষেধ: একাদশীর দিন ভুলেও গাছে হাত দিয়ে তুলসী পাতা ছিঁড়বেন না। পূজার জন্য প্রয়োজন হলে দশমীর দিনই পাতা তুলে রাখুন।
  • পরের দিন সঠিক পারণ: দ্বাদশীর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারণ সম্পন্ন করা আবশ্যক। পারণের সময় শ্রীহরিকে নিবেদন করা প্রসাদ বা অন্ন গ্রহণ করে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়।

মনের শুদ্ধতা ও বিষ্ণুভক্তি

একাদশী কেবল খাদ্য বর্জনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ইন্দ্রিয় সংযম ও মনকে শ্রীকৃষ্ণের চরণে যুক্ত করার এক দুর্লভ সুযোগ। এই দুই দিন অপ্রয়োজনীয় বাক্যালাপ ও ক্রোধ এড়িয়ে মহামন্ত্র জপ করুন:

“ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়”

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দুটি মহাতীর্থসম একাদশী নিষ্ঠাভরে পালন করে আপনার জীবনে ইতিবাচক শক্তি এবং পরম শান্তি নিয়ে আসুন।

👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।

📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News

Sudipta

Hello Friend's, This is Sudipta Sahoo, from India. I am a Web content creator, and writer. Here my role is at Ichchekutum Bangla is to bring to you all the latest news from new scheme, loan etc. sometimes I deliver economy-related topics, it is not my hobby, it’s my interest. thank you! For tips or queries, you can reach out to him at [email protected]