Sharad Purnima 2026: সনাতন ধর্মে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথি অত্যন্ত পবিত্র ও অলৌকিক বলে বিবেচিত হয়। এই বিশেষ দিনটি দেশজুড়ে ‘শারদ পূর্ণিমা’, ‘কোজাগরী পূর্ণিমা’ কিংবা ‘রাস পূর্ণিমা’ নামে পরিচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরের এই একটিমাত্র রাতেই চাঁদ তার ১৬টি কলায় পূর্ণ হয়ে আকাশ থেকে অমৃত বর্ষণ করে। আপনি কি জানেন ২০২৬ সালে এই অলৌকিক তিথিটি কবে পড়েছে? আসুন, আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিত জেনে নিই , এর সঠিক সময়সূচি, পূজা পদ্ধতি এবং রাতভর খোলা আকাশের নিচে ক্ষীর রাখার আসল রহস্য।
Sharad Purnima 2026 Date and Time: সঠিক তারিখ ও শুভ মুহূর্ত
২০২৬ সালে বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে শারদ পূর্ণিমার তারিখ নিয়ে সামান্য বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, কারণ পূর্ণিমা তিথিটি দুটি দিন জুড়ে বিস্তৃত থাকবে। তবে উৎসবের মূল আচার ও কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা যেহেতু চন্দ্রোদয় এবং নিশীথ কালের (মধ্যরাত) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, তাই প্রধান উৎসবটি পালিত হবে ২৫ অক্টোবর।
বৈদিক পঞ্জিকা (Drik Panchang) অনুসারে ২০২৬ সালের শারদ পূর্ণিমার নিখুঁত সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:
- শারদ পূর্ণিমার তারিখ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ (রবিবার)।
- পূর্ণিমা তিথি শুরু: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে।
- পূর্ণিমা তিথি সমাপ্ত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ০৯টা ৪১ মিনিটে।
- চন্দ্রোদয়ের সময় (Moonrise Time): ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ বিকেল ০৫টা ০০ মিনিটে (স্থানভেদে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে)।
- নিশীথ কাল (কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা মুহূর্ত): ২৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ২৬ অক্টোবর রাত ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত।
- স্নান ও দান পূর্ণিমা: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ (সোমবার) সকালে উদয়া তিথি অনুযায়ী পবিত্র স্নান ও দান-ধ্যান করা শুভ।
শারদ পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, শারদ পূর্ণিমার রাতেই ধনদেবী মাতা লক্ষ্মী মর্ত্যলোকে পরিভ্রমণে আসেন। তিনি দেখেন কে কে জেগে আছেন এবং তাঁর আরাধনা করছেন। ‘কো জাগরতি’ অর্থাৎ ‘কে জেগে আছো?’ শব্দ থেকেই ‘কোজাগরী’ নামের উৎপত্তি। এই রাতে দেবী লক্ষ্মীর পাশাপাশি শ্রী হরি বিষ্ণু এবং চন্দ্রদেবের বিশেষ পূজা করা হয়। অন্যদিকে, বৃন্দাবনে এই রাতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপীকাদের সঙ্গে তাঁর বিখ্যাত ‘মহা রাস’ লীলা রচনা করেছিলেন, তাই ব্রজ অঞ্চলে একে রাস পূর্ণিমাও বলা হয়।
চাঁদের আলোয় ক্ষীর বা পায়েস রাখার বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক রহস্য
শারদ পূর্ণিমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো রাতের বেলা খোলা আকাশের নিচে দুধ ও চাল দিয়ে তৈরি ক্ষীর বা পায়েস রাখা। মনে করা হয়, এই রাতে চাঁদের কিরণ থেকে যে বিশেষ ঔষধি ও অমৃত উপাদান নির্গত হয়, তা ক্ষীরের গুণমানকে বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।
- কীভাবে করবেন এই আচার?
২৫ অক্টোবর রাতে চন্দ্রোদয়ের পর রূপো বা মাটির পাত্রে ক্ষীর তৈরি করে একটি পাতলা সুতি কাপড় বা নেট দিয়ে ঢেকে খোলা ছাদে বা বারান্দায় রেখে দিন। মাঝরাতের পর বা পরদিন ভোরে ব্রহ্ম মুহূর্তে সেই ক্ষীর শ্রী বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করুন। এরপর পরিবারের সকলের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করুন। বিশ্বাস করা হয়, এই প্রসাদ গ্রহণে শরীর রোগমুক্ত হয় এবং মনের নেতিবাচকতা দূর হয়।
সুখ-সমৃদ্ধি বাড়াতে শারদ পূর্ণিমার রাতে কী করবেন এবং কী করবেন না?
কী করবেন:
১. ২৫ অক্টোবর সারা দিন উপবাস থেকে রাতে চন্দ্রদেবকে অর্ঘ্য দিয়ে ব্রত ভঙ্গ করুন।
২. ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং দরজার সামনে সুন্দর আলপনা দিন, কারণ মা লক্ষ্মী পরিচ্ছন্ন স্থানেই বিরাজ করেন।
৩. রাতে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে মা লক্ষ্মীর পাঁচালী বা মন্ত্র জপ করুন।
কী করবেন না:
১. এই পবিত্র দিনে ভুলেও তামসিক খাবার (পেঁয়াজ, রসুন বা আমিষ) এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য স্পর্শ করবেন না।
২. ঘরে যেন কোনো প্রকার ঝগড়া বা অশান্তির পরিবেশ তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৩. এই দিনে কালো রঙের পোশাক এড়িয়ে উজ্জ্বল সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরিধান করা শুভ বলে মনে করা হয়।
শারদ পূর্ণিমা শুধু একটি ব্রত বা উৎসব নয়, এটি প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব মিলনক্ষণ। ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবরের এই মহিমান্বিত রাতে মা লক্ষ্মীর কৃপায় আপনার জীবন ধন-ধান্য ও সুস্বাস্থ্যে ভরে উঠুক—এই কামনাই করি।
কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
১. শরদ পূর্ণিমার দিন কোন রঙের পোশাক পরা উচিত?
এই রাতে চাঁদের শুভ্রতার প্রতীক হিসেবে সাদা, রুপোলি বা অফ-হোয়াইট রঙের পোশাক পরা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এছাড়া বাঙালি ঐতিহ্যে মা লক্ষ্মীর পূজার সময় লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরার রেওয়াজ রয়েছে।
২. ২০২৬ সালের কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা কবে?
২০২৬ সালের কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত হবে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













