UAE Leaving OPEC
UAE Leaving OPEC মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রায় ছয় দশক পর ওপেক ও ওপেক+ জোট ছাড়ার ঘোষণা করেছে দেশটি।
সিদ্ধান্ত শুধু তেল বাজার নয়, বরং গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভূ‑রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। এই ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতসহ বড় তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতির কারণে তারা ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল।
ইউএই চেয়েছিল আরও বেশি তেল উৎপাদনের স্বাধীনতা। কিন্তু ওপেকের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছিল না।
এই কারণেই UAE Leaving OPEC এখন তাদের কাছে কৌশলগতভাবে জরুরি হয়ে উঠেছে।
ওপেক এবং ওপেক+ মিলিয়ে বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৩৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এই জোট।
বিশ্বের প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় ৮০ শতাংশও তাদের হাতে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বছরে গড়ে প্রায় ২.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে।
এত বড় এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি সদস্যের চলে যাওয়া ওপেকের শক্তিকে দুর্বল করবে।
এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে সৌদি আরবের ওপর, যাকে এখন একাই বাজার সামলাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, UAE Leaving OPEC সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে একাধিক সদস্য দেশের জন্য নজির হয়ে উঠতে পারে।
যেসব দেশ উৎপাদন বাড়াতে চায়, তারা ওপেকের কঠোর নিয়মে আর থাকতে চাইবে না।
এর ফলে ওপেকের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এটি বৈশ্বিক তেল বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৯৬০ সালে ওপেক গঠিত হয় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত ও ভেনিজুয়েলার হাত ধরে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এতে যোগ দেয় ১৯৬৭ সালে।
বর্তমানে ওপেকের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, নাইজেরিয়া, লিবিয়া ও ভেনিজুয়েলা।
ইউএইর প্রস্থান এই দীর্ঘদিনের জোট কাঠামোকে বড় ধাক্কা দিল।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র‑ইরান সংঘাতের আবহে এই সিদ্ধান্ত আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে।
এর একটি বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং ইউএইর ওপেক ত্যাগের ফলে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
স্বল্পমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতের জ্বালানি খরচে।
তবে যদি ইউএই ওপেকের বাইরে থেকে তেল উৎপাদন বাড়ায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম কমতেও পারে।
এটি ভারতের মতো দেশের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে।
গত কয়েক বছরে ভারত ও ইউএইর সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।
একই সঙ্গে ইউএই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ FDI উৎস হিসেবেও উঠে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে UAE Leaving OPEC সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য নতুন তেল চুক্তির দরজা খুলতে পারে।
UAE Leaving OPEC শুধু একটি জোটত্যাগ নয়।
এটি বিশ্ব জ্বালানি বাজার, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য এবং ভারতের এনার্জি সিকিউরিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
আগামী কয়েক মাসে তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News
This post was last modified on 28 April 2026 9:53 PM
Exit Poll West Bengal 2026 পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২6 ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন শীর্ষে। পাঁচ… Read More
টানা কয়েক দিনের পতনের পর সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে দেখা গেল জোরালো উত্থান। বড় বড়… Read More
গ্রীষ্মকাল এলেই ঘরে ঘরে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে আরাম পেতে এসিই… Read More
Silver Cleaning at Home রুপোর বাসনপত্র বা গয়না দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই যত্নের অভাবে সেগুলো… Read More
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় কূটনৈতিক বার্তা দিল ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি… Read More
Fasal Bima Yojana 2026 ভারতের কোটি কোটি কৃষকের জীবিকা সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রাকৃতিক… Read More