Whole Civilisation Will Die Tonight: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের উদ্দেশে এক ভয়াবহ সতর্কবার্তায় তিনি দাবি করেছেন, “আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হতে চলেছে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social‑এ দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, তিনি এমন পরিণতি চান না, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সেদিকেই এগোচ্ছে।
তার কথায়, “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতার অবসান ঘটবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত সেটাই হতে চলেছে।”
বিশ্ব ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাত’? – (Whole Civilisation Will Die Tonight)
ট্রাম্প আরও বলেন, আজকের রাতটি বিশ্ব ইতিহাসের “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি” হতে যাচ্ছে। তার দাবি, গত ৪৭ বছর ধরে চলা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও রক্তপাতের অবশেষে ইতি ঘটতে চলেছে।
যদিও এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে যুদ্ধের ইঙ্গিত রয়েছে, তবুও ট্রাম্প একেবারে শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য বিকল্প পথের ইঙ্গিতও দেন। তিনি লেখেন, “হয়তো কোনো বৈপ্লবিক ও চমৎকার সমাধান সামনে আসতেও পারে।”

যুদ্ধবিরতির চেষ্টা, কিন্তু অগ্রগতি সামান্য
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ইরানকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির পথে প্রথম ধাপ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি খুবই সীমিত। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিজেদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তেহরানের ওপর।
ইরানের কড়া জবাব: সভ্যতা হুমকিতে পড়বে না
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানও তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
“আপনি এবং আপনার মিত্ররা ইরানের প্রাচীন সভ্যতার কাছ থেকে এক অবিস্মরণীয় জবাব পাবেন।”
তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X‑এ জানায়, “একজন মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের হুমকিতে সেই সভ্যতার অবসান ঘটবে না, যাকে সময়, ইতিহাস, আলেকজান্ডার কিংবা মোঙ্গলরাও ধ্বংস করতে পারেনি।”
বার্তায় আরও বলা হয়, ইতিহাস ইরানকে বহুবার পরীক্ষা করেছে, কিন্তু দেশটি টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম
ট্রাম্প সোমবার স্পষ্ট করে জানান, সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তিনি “একদমই চিন্তিত নন।” একইসঙ্গে তিনি তেহরানকে হুমকি দেন—
যদি মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইএসটি)‑র মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেওয়া হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
এই হুমকির মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রধান সেতুতে একযোগে বোমা হামলা।
জাতিসংঘের সতর্কতা
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই সতর্কবার্তাও পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
“পাগলা কুকুরের মতো রক্তপিপাসু”—মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের মন্তব্য
মার্কিন রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম Axios‑এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের ভেতরেও ট্রাম্পকে সবচেয়ে যুদ্ধবাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক অজ্ঞাত মার্কিন কর্মকর্তার মন্তব্য অনুযায়ী,
“প্রেসিডেন্ট যেন এক উন্মাদ কুকুর—ভয়ংকরভাবে রক্তপিপাসু।”
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের তুলনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ মনে হয়।
খার্গ দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর
ইরানের আধা‑সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীর কাছে খার্গ দ্বীপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই দ্বীপটি ইরানের অন্যতম বড় তেল রপ্তানি কেন্দ্র।
Axios জানিয়েছে, একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্বীপটিতে থাকা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে।
শেষে বলা যায়
Whole Civilisation Will Die Tonight—ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতিতে এক ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত। ইরান‑যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যদি কূটনৈতিক সমাধানের পথে না এগোয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের ওপর পড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—এটি কি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রাত হতে চলেছে, নাকি শেষ মুহূর্তে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান উঠে আসবে?
এই ধরনের তথ্য সহজ বাংলা ভাষায় পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন 👇
| আমাদের Facebook পেজ | Follow Us |
| আমাদের What’s app চ্যানেল | Join Us |
| আমাদের Twitter | Follow Us |
| আমাদের Telegram চ্যানেল | Click Here |
| Google নিউজে ফলো করুন | Follow Us |













