Windfall Tax Reduced এই খবরে বড় স্বস্তি পেল তেল সংস্থাগুলি এবং জ্বালানি বাজার। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামে চরম ওঠানামা চলছেই। এমন পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ডিজেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) রপ্তানির ওপর ধার্য উইন্ডফল ট্যাক্স উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন তেল সংস্থাগুলোর ওপর চাপ কমবে, তেমনই বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতার আশা করা হচ্ছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ মে ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে Reduced করা হয়েছে। যদিও রপ্তানি শুল্কের ক্ষেত্রে এই ছাড় মিলেছে, তবে দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো মূল্য এবং আবগারি শুল্কে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
Windfall Tax Reduced: ঠিক কী কী পরিবর্তন হয়েছে?
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রপ্তানি শুল্কে বড়সড় কাটছাঁট করা হয়েছে, যার বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো—
- ডিজেল রপ্তানিতে উইন্ডফল ট্যাক্স:
আগে প্রতি লিটারে যেখানে ৫৫.৫ টাকা শুল্ক দিতে হত, এখন তা কমিয়ে ২৩ টাকা করা হয়েছে। - এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF):
এটিএফ-এর ওপর শুল্ক ৪২ টাকা থেকে কমে ৩৩ টাকা প্রতি লিটার হয়েছে। - পেট্রোল রপ্তানি শুল্ক:
পেট্রোল রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক আগের মতোই শূন্য রাখা হয়েছে। - অতিরিক্ত সুবিধা:
আগামী ১৫ দিনের জন্য ডিজেলের ওপর সড়ক ও পরিকাঠামো সেস মকুব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পরিবহণ ও পরিকাঠামো খাতে স্বস্তি দেবে।
আগে উইন্ডফল ট্যাক্স কত ছিল?
সরকার চলতি বছরের ২৬ মার্চ প্রথমবার ডিজেল ও ATF-এর ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপ করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ১১ এপ্রিল তা আরও বাড়ানো হয়েছিল।
সে সময় শুল্কের হার ছিল—
- ডিজেল: প্রতি লিটারে ২১.৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫.৫ টাকা
- ATF: প্রতি লিটারে ২৯.৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪২ টাকা
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এবার আবার এই শুল্ক কমানোর পথে হাঁটল সরকার। এর ফলেই Windfall Tax Reduced সংক্রান্ত এই বড় সিদ্ধান্ত।
উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপের কারণ কী ছিল?
উইন্ডফল ট্যাক্স বা অপ্রত্যাশিত লাভ কর মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণের জন্য আনা হয়েছিল—
- আন্তর্জাতিক বাজারে দামের হঠাৎ বৃদ্ধির ফলে তেল সংস্থাগুলি যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে।
- দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া দামের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলে অতিরিক্ত রপ্তানি নিরুৎসাহিত করা।
এই করের মাধ্যমে সরকার বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করতে চেয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বদলাতেই করের হার পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও তেলের দামের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। একসময় যেখানে দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৩ ডলার, সেখানে তা বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৬ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। যদিও ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং নিজস্ব শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে।
সংক্ষেপে বললে, Windfall Tax Reduced হওয়ায় তেল রপ্তানিকারক সংস্থাগুলোর জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মাঝেও সরকারের এই পদক্ষেপ জ্বালানি খাতে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













