When is Ganesh Chaturthi 2026: হিন্দু সনাতন ধর্মে বিঘ্নহর্তা ভগবান শ্রী গণেশের বন্দনা ছাড়া কোনো শুভ কাজই শুরু হয় না। আর এই পরম করুণাময় দেবতার আবির্ভাব তিথি উদযাপিত হয় গণেশ চতুর্থী হিসেবে। সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। তবে উৎসবের সঠিক পরিকল্পনা করার জন্য শুরুতেই স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার—When is Ganesh Chaturthi 2026?
বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে এই মহোৎসব শুরু হতে চলেছে। জেনে নিন এই পূজার শুভ মুহূর্ত, তিথির সময়সূচি এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান।
গণেশ চতুর্থী ২০২৬: তিথি ও শুভ পূজার সময়
গণপতি বাপ্পার আগমন সব সময়ই শুভ যোগ ও নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট মেনে করা শাস্ত্রসম্মত। মধ্যাহ্ন কালকে গণেশের পূজার জন্য শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করা হয়, কারণ পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি দ্বিপ্রহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- চতুর্থী তিথি শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর ০৭:০৬ মিনিটে।
- চতুর্থী তিথি সমাপ্ত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ০৭:৪৪ মিনিটে।
- গণেশ পূজা ও প্রতিমা স্থাপনের শুভ মুহূর্ত: ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১:০২ মিনিট থেকে দুপুর ০১:৩১ মিনিট পর্যন্ত (মধ্যাহ্ন পূজা কাল)।
- অনন্ত চতুর্দশী ও বিসর্জন: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার।
When is Ganesh Chaturthi 2026: উৎসবের ১০ দিনের মহিমা
গণেশোৎসব মূল চত্বরে একটানা ১০ দিন ধরে উদযাপিত হয়। অনেকে বাড়িতে দেড় দিন, তিন দিন কিংবা পাঁচ দিনের জন্যও বাপ্পাকে প্রতিষ্ঠা করেন।
- প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও সংকল্প: পূজার প্রথম দিন মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে প্রতিমায় দেবত্ব জাগ্রত করা হয়।
- ষোড়শোপচার পূজা: চন্দন, লাল ফুল, জবা এবং বিশেষ করে দুর্বা ঘাস নিবেদন করা গণেশ পূজায় অত্যন্ত আবশ্যক।
- ভোগ ও প্রসাদ: বাপ্পার প্রিয় ভোগ হলো মোদক ও লাড্ডু। ২১টি মোদক নিবেদন করে ভক্তরা সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
- বিসর্জন: দশম দিন অর্থাৎ অনন্ত চতুর্দশীর দিনে ধুমধাম সহকারে প্রতিমা জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই বিদায় চোখের জল আনলেও ভক্তদের মুখে থাকে একটাই সুর—“গণপতি বাপ্পা মোরিয়া, পুড়চ্যা বরশী লৌকোরিয়া”।
গণেশ চতুর্থীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব
গণেশ হলেন বুদ্ধি, সমৃদ্ধি, জ্ঞান ও শুভ শক্তির আধার। নতুন বাড়ি তৈরি, ব্যবসা শুরু বা যে কোনো পরীক্ষা-প্রকল্পের পূর্বে তাঁর পূজা বাধা-বিপত্তি দূর করে সাফল্য বয়ে আনে। মহারাষ্ট্র, গোয়া, গুজরাট, কর্ণাটকের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের প্রতিটি কোণায় আজ এই উৎসব এক অভূতপূর্ব সামাজিক মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে।
বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব (Eco-friendly) মাটির মূর্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। কৃত্রিম রাসায়নিক রঙের বদলে প্রাকৃতিক উপাদানে গড়া প্রতিমা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং উৎসবে শুদ্ধতা আনে।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এই পবিত্র দিনটি ক্যালেন্ডারে দাগিয়ে রাখুন। আপনার ঘরে সিদ্ধিদাতা গণপতির আগমনে দূর হোক সব অমঙ্গল, সংসারে আসুক সুখ, শান্তি ও প্রাচুর্য। গণপতি বাপ্পা মোরিয়া!
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













