Mirabai Chanu Wins Silver at Asian Games: ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে তৈরি হলো এক সোনালী অধ্যায়। দীর্ঘ ২৮ বছরের পদক খরা কাটিয়ে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন ভারতের তারকা ভারোত্তোলক সৈখোম মীরাবাই চানু। মহিলাদের ৪৯ কেজি বিভাগে অনবদ্য পারফর্ম্যান্স প্রদর্শন করে রৌপ্য পদক জিতে নিলেন তিনি।
এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমস এবং এশিয়ান গেমস—তিনটি আন্তর্জাতিক মঞ্চেই পদক জয়ের বিরল রেকর্ড সম্পূর্ণ করলেন মণিপুরের এই অগ্নিকন্যা।
মঞ্চে এক অপ্রতিরোধ্য প্রত্যাবর্তন
অতীতে চোট-আঘাত ও কঠিন পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হলেও মীরাবাই প্রমাণ করেছেন আত্মবিশ্বাস কাকে বলে। ফাইনালে শুরু থেকেই তাঁর চোখেমুখে ছিল নিখুঁত লক্ষ্যপূরণের ছাপ।
- স্ন্যাচ রাউন্ড: মীরাবাই চানু ৮৭ কেজি ওজন সফলভাবে তুলে শুরুতেই পোডিয়ামের দৌড়ে নিজেকে এগিয়ে রাখেন।
- ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ড: প্রথম সুযোগে ১০৭ কেজি তোলার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ১১১ কেজি ওজন তুলে নেন।
- মোট উত্তোলন: স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে চানুর সংগৃহীত মোট স্কোর দাঁড়ায় ১৯৮ কেজি।
এই ক্যাটাগরিতে ২১৫ কেজি তুলে সোনা জেতেন উত্তর কোরিয়ার রি সং-গুম এবং ব্রোঞ্জ পান ইন্দোনেশিয়ার লুলুক দিয়ানা ত্রি উইজায়ানা। তবে লড়াইয়ের তীব্রতায় প্রতিটি পদক্ষেপে মীরাবাই নজর কেড়েছেন উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমীদের।
২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান
ভারতীয় ভারোত্তোলনে এশিয়ান গেমসের এই পদকটি ছিল বহু প্রতীক্ষিত। ১৯৯৮ সালের পর থেকে এই মঞ্চে ভারত কোনো ভারোত্তোলন পদকের মুখ দেখেনি। চানুর এই রূপো জয় কেবল একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি ভারতীয় ক্রীড়া মহলের জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত।
টোকিও অলিম্পিকে রূপো জয়ী এই অ্যাথলিটের ক্যারিয়ারে বহু খেতাব রয়েছে—বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা এবং কমনওয়েলথ গেমসের সোনা। কিন্তু এশিয়ান গেমসের ট্রফি ক্যাবিনেটে যে শূন্যস্থানটি এতদিন অপূর্ণ ছিল, নাগোরার মঞ্চে এবার তা সসম্মানে পূর্ণ হলো।
লড়াকু মানসিকতা ও আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
মণিপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এক মেয়ের বিশ্বমঞ্চ কাঁপানোর গল্প নতুন নয়, কিন্তু প্রতিবার মঞ্চে নেমে তাঁর এই জয়ের ক্ষুধা অনুপ্রেরণা জোগায় লাখো তরুণ ক্রীড়াবিদকে। বারবার শারীরিক চোটের কাছে থমকে গিয়েও তিনি যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, তা প্রকৃত চ্যাম্পিয়নের লক্ষণ।
প্রতিযোগিতা শেষে মীরাবাইয়ের অভিব্যক্তিই বলে দেয় এই রূপোর গুরুত্ব তাঁর কাছে কতটা অপরিসীম। দেশের পতাকাকে আবারও বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রেখে তিনি দেখিয়ে দিলেন ভারতীয় নারীদের ক্ষমতা কোন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
এশিয়ান গেমসে মীরাবাইয়ের এই অর্জন কেবল ভারতের ঝুলিতে পদকসংখ্যা বাড়ায়নি, বরং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে ভারতীয় শিবিরের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। দেশের কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমী আজ একসুরে স্যালুট জানাচ্ছে এই হার না মানা বীরকন্যাকে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













