Monsoon Forecast India নিয়ে আবারও বড় আপডেট দিল ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD)। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু খুব শীঘ্রই ভারতে প্রবেশ করতে চলেছে। বিশেষ করে, ৪ জুনের আশেপাশেই কেরালা উপকূলে বর্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ধীরে ধীরে সারা দেশে বৃষ্টি বয়ে আনবে।
Monsoon Forecast India: কবে নামবে বর্ষা?
আইএমডি জানিয়েছে, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই বর্ষা ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারে। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুনের কাছাকাছি সময়ে কেরালায় বর্ষা শুরু হয়, তবে এবার কিছুটা দেরি হতে পারে। নতুন আপডেট অনুযায়ী, ৪ জুনের মধ্যে কেরালায় মৌসুমী বায়ুর প্রবেশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এর মাধ্যমেই শুরু হয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী ঋতু, যা সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং দেশের প্রধান বৃষ্টিপাত এই সময়েই হয়।
কোন কোন এলাকায় প্রথম প্রভাব পড়বে?
IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ জুন নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু নিম্নলিখিত অঞ্চলে প্রবেশ করবে—
- দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের কিছু অংশ
- লাক্ষাদ্বীপ অঞ্চল
- কেরালা ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশ
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম, পশ্চিম-মধ্য, পূর্ব-মধ্য ও উত্তর-পূর্ব অংশ
এর ফলে এই অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টি শুরু হয়ে ধীরে ধীরে উত্তর ও মধ্য ভারতে ছড়িয়ে পড়বে।
আগের পূর্বাভাস কেন বদলালো?
এর আগে IMD অনুমান করেছিল যে ২৬ মে-র মধ্যেই কেরালায় বর্ষা ঢুকবে। কিন্তু সেই সময় আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এরপর ২৯ মে নতুন আপডেটে জানানো হয়, পরবর্তী সপ্তাহেই বর্ষা প্রবেশ করতে পারে।
এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, বর্ষার আগমন পুরোপুরি নির্ভর করে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ এবং বায়ুপ্রবাহের উপর, যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়।
Monsoon Forecast India: বৃষ্টির পরিমাণ কেমন হবে?
IMD-এর সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতে মোট বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই বছর মোট বৃষ্টিপাত হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী গড় (LPA)-এর প্রায় ৯০ শতাংশ।
LPA কী?
LPA বা Long Period Average বলতে বোঝায় নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘ সময় (সাধারণত ৩০-৫০ বছর) ধরে সংগৃহীত বৃষ্টিপাতের গড় হিসাব।
ভারতের ক্ষেত্রে এই গড় মৌসুমি বৃষ্টিপাত হল প্রায় ৮৭ সেন্টিমিটার।
কখন ‘ঘাটতি বর্ষা’ ধরা হয়?
যদি কোনো বছরে বৃষ্টিপাত LPA-এর ৯০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তখন তাকে ঘাটতিপূর্ণ বর্ষা (Deficient Monsoon) বলা হয়। যা কৃষি ও জলসম্পদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এল নিনো ফ্যাক্টর: কেন কম হতে পারে বৃষ্টি?
কম বৃষ্টিপাতের পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে El Niño পরিস্থিতি।
বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে ENSO (El Niño Southern Oscillation) একটি নিরপেক্ষ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে এল নিনোতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
ENSO কী?
ENSO হলো একটি জলবায়ুগত প্রক্রিয়া যা তিনটি অবস্থায় থাকতে পারে—
- El Niño (উষ্ণ অবস্থা) → বৃষ্টিপাত কমায়
- La Niña (শীতল অবস্থা) → বৃষ্টিপাত বাড়ায়
- Neutral (মধ্যবর্তী অবস্থা)
বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিরপেক্ষ থাকলেও, IMD জানিয়েছে যে—
- জুন মাসে El Niño দুর্বল থাকবে
- তবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী হতে পারে
এর প্রভাবেই দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
কৃষি ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
ভারতের কৃষি ব্যবস্থা অনেকটাই নির্ভর করে বর্ষার উপর। তাই Monsoon Forecast India অনুযায়ী—
- স্বাভাবিকের কম বৃষ্টি হলে ফসল উৎপাদন কমতে পারে
- পানীয় জলের সংকট দেখা দিতে পারে
- বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে (বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে)
তবে সময় মতো বর্ষার আগমন কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
সংক্ষেপে, Monsoon Forecast India ২০২৬ অনুযায়ী ৪ জুনের মধ্যে কেরালায় বর্ষার আগমন প্রায় নিশ্চিত, যদিও মোট বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। El Niño পরিস্থিতি এই প্রবণতাকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
তাই আগামী কয়েক সপ্তাহ ভারতের আবহাওয়া পরিস্থিতি ও বর্ষার অগ্রগতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—কৃষি, অর্থনীতি এবং সাধারণ জীবনের জন্যই।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













