Record GST Collection July 2026: ভারতীয় অর্থনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হলো। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভারতের গ্রস গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) সংগ্রহ গত বছরের তুলনায় ১৫.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ২,১১,২০৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি ভারতের জিএসটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা মাসিক পারফরম্যান্স হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জিএসটি ২.০ (GST 2.0) চালু হওয়ার পর থেকে কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ফলেই এই অভূতপূর্ব সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
রাজস্ব সংগ্রহের মূল পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের জুলাই মাসের মোট জিএসটি সংগ্রহের একটি বিস্তারিত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
- মোট গ্রস জিএসটি সংগ্রহ: ২,১১,২০৫ কোটি টাকা।
- সেন্ট্রাল জিএসটি (CGST): ৩৯,৮৩৫ কোটি টাকা।
- স্টেট জিএসটি (SGST): ৪৭,৮৮১ কোটি টাকা।
- ইন্টিগ্রেটেড জিএসটি (IGST): ১,২৩,৪৯০ কোটি টাকা (যার মধ্যে আমদানি থেকে এসেছে ৬৬,৫১১ কোটি টাকা)।
- নেট জিএসটি রাজস্ব: রিফান্ড বা ফেরত দেওয়ার পর সরকারের হাতে নিট রাজস্ব জমা পড়েছে ১,৮১,২৩৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৫.৮% বেশি।
জিএসটি ২.০: কর ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা
ভারতের কর কাঠামোকে আরও সহজ এবং ব্যবসা-বান্ধব করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে জিএসটি ২.০ চালু করা হয়। এই ব্যবস্থার অধীনে করদাতাদের ঝক্কি কমাতে ডিজিটাল টুলস এবং ডেটা-চালিত মনিটরিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন দুধ, পাউরুটি এবং শাকসবজির ওপর কর কমিয়ে ০% করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের সাশ্রয় ঘটিয়েছে। জীবন বীমা এবং স্টেশনারি পণ্যের ওপর থেকেও কর তুলে নেওয়া হয়েছে। এই নমনীয় কর কাঠামোই মূলত বড় অংকের রাজস্ব আদায়ে উৎসাহ জুগিয়েছে।

আমদানি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভূমিকা
জুলাই মাসের এই বিশাল সংগ্রহের পেছনে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর জিএসটি সংগ্রহের বড় ভূমিকা রয়েছে। আমদানি থেকে সংগৃহীত কর ২৮.৮% বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬,৫১১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টাকার মূল্যের হ্রাস এবং জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী দাম বৃদ্ধি আমদানির করযোগ্য মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ লেনদেন থেকে সংগ্রহ ১০.১% বেড়ে ১,৪৪,৬৯৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা দেশের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও শিল্প তৎপরতার প্রমাণ দেয়।
রাজ্যভিত্তিক সাফল্যের খতিয়ান
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে জিএসটি সংগ্রহে চোখে পড়ার মতো প্রতিযোগিতা দেখা গেছে:
- হরিয়ানা: সবচেয়ে বেশি ২৫% থেকে ২৮% প্রবৃদ্ধি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
- গুজরাট ও তেলেঙ্গানা: উভয় রাজ্যই ১৯% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তেলেঙ্গানা জুলাই মাসে তাদের সর্বকালীন রেকর্ড ৭,৮৬৫ কোটি টাকা কর সংগ্রহ করেছে।
- মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক: দেশের বৃহত্তম কর প্রদানকারী রাজ্য হিসেবে মহারাষ্ট্র ১৩% এবং কর্ণাটক ১২% প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে।
- পশ্চিমবঙ্গ: জুলাই ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গ থেকে সংগ্রহ হয়েছে ৫,৫৬৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় মাত্র ১% বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও রিফান্ড ব্যবস্থা
জিএসটি প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীদের রিফান্ড প্রক্রিয়াও অনেক দ্রুত হয়েছে। জুলাই মাসে মোট ২৯,৯৬৮ কোটি টাকা রিফান্ড হিসেবে প্রদান করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩.১% বেশি। এর ফলে রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ টাকার জোগান বেড়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাহায্য করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএসটি সংগ্রহের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে সরকার ভবিষ্যতে জিএসটি ৩.০ (GST 3.0) চালুর কথা ভাবতে পারে, যা কর কাঠামোকে আরও সরলীকরণ করবে। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির এই স্থিতিস্থাপকতা বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মাঝেও একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এই রেকর্ড জিএসটি সংগ্রহ কেবল সংখ্যা নয়, বরং ভারতের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক কাঠামো এবং আধুনিক কর সংস্কারের এক সফল প্রতিচ্ছবি।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













