India LPG Cylinder Price Comparison: ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার আজ একটি অপরিহার্য অংশ। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং সরকারের ভর্তুকি নীতি নিয়ে আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। ভারত সরকার বর্তমানে ভর্তুকি ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ এবং কার্যকর করতে একটি সুচিন্তিত কৌশল অবলম্বন করছে। বিশেষজ্ঞের নজরে ভারতের এই এলপিজি ভর্তুকি কৌশল এবং আপনার পকেটে এর প্রভাব নিয়ে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কীভাবে ঠিক হয়?
ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রধানত আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে। একে বলা হয় ‘ইমপোর্ট প্যারিটি প্রাইস’ (IPP)। সৌদি আরামকো-র নির্ধারিত দাম, সমুদ্র পথে পরিবহণ খরচ, কাস্টমস ডিউটি এবং বিমার ওপর ভিত্তি করে এই দাম নির্ধারিত হয়। যেহেতু ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজির প্রায় অর্ধেক আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বা ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমলে ভারতেও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়।
ভর্তুকি ও জিএসটি (GST)-র মারপ্যাঁচ
ভারত সরকার সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে সিলিন্ডারের দামে বিশাল ছাড় দেয়। বর্তমানে গার্হস্থ্য ব্যবহারের ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের ওপর মাত্র ৫% জিএসটি ধার্য করা হয়। অন্যদিকে, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত বাণিজ্যিক ১৯ কেজি সিলিন্ডারের ওপর ১৮% জিএসটি দিতে হয়।
উদ্বেগের বিষয় হলো, ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মধ্যে দামের পার্থক্য ১০০০ টাকারও বেশি হওয়ায় অনেক সময় ঘরোয়া সিলিন্ডার অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়। এই কালোবাজারি রুখতে সরকার এখন অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর: DBTL ও PAHAL প্রকল্প
এক সময় ভর্তুকি দেওয়া হতো সিলিন্ডারের দাম সরাসরি কমিয়ে। কিন্তু এতে প্রচুর জালিয়াতি হতো। ২০১৩ সালে সরকার ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার ফর এলপিজি’ (DBTL) বা ‘পহল’ (PAHAL) প্রকল্প চালু করে। এর মাধ্যমে গ্রাহক বাজার মূল্যে সিলিন্ডার কেনেন এবং ভর্তুকির টাকা সরাসরি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এই ব্যবস্থার ফলে প্রায় ৪৫.৪ মিলিয়ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা ‘ঘোস্ট বেনিফিশিয়ারি’ শনাক্ত করে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
উজ্জ্বলা যোজনা ও ‘গিভ ইট আপ’ ক্যাম্পেইন
সরকারের লক্ষ্য হলো ভর্তুকি কেবল তাদেরই দেওয়া যারা প্রকৃতই অভাবী। এই লক্ষ্যে দুটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:
১. প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (PMUY): এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গরিব পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ এবং সিলিন্ডার প্রতি অতিরিক্ত ৩০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।
২. ‘গিভ ইট আপ’ (Give It Up): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন সচ্ছল পরিবার স্বেচ্ছায় তাদের গ্যাসের ভর্তুকি ছেড়ে দিয়েছেন। এই সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়ে দেশের দরিদ্র মহিলাদের গ্যাসের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কৌশল: ভর্তুকি কোটা ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ
সম্প্রতি ইকোনমিক সার্ভেতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, বছরে ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২টি থেকে কমিয়ে ১০টি করা উচিত। সরকার মনে করে, অধিকাংশ পরিবারের জন্য বছরে ১০টি সিলিন্ডারই যথেষ্ট।
বর্তমান পশ্চিম এশিয়া সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকা পর্যন্ত ‘আন্ডার-রিকভারি’ বা লোকসান নিজে বহন করছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
ভারতের এলপিজি ভর্তুকি কৌশল এখন অনেক বেশি তথ্যনির্ভর এবং স্বচ্ছ। সরকার একদিকে যেমন গরিবের ঘরে পরিষ্কার জ্বালানি পৌঁছে দিচ্ছে, তেমনি কালোবাজারি রুখতে আধার ভেরিফিকেশন এবং ওটিপি (OTP) ভিত্তিক ডেলিভারি ব্যবস্থা জোরদার করছে। রান্নার গ্যাসের এই সংস্কার কেবল রাজকোষের সাশ্রয় করছে না, বরং একটি দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ভারতের স্বপ্নকেও সফল করছে।
👉এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হন।
📌 Facebook | 📌 WhatsApp | 📌 Twitter | 📌 Telegram | 📌 Google News













